সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আইএনটিটিইউসি-র দেওয়া টোল ফ্রি নম্বরে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছে। সেই টোল ফ্রি নম্বরের মাধ্যমে বহু নেতার চরিত্র খোলসা হয়ে যাচ্ছে। এবার শহর জুড়ে ২৫ জুন সেই টোল ফ্রি নম্বর লেখা হোর্ডিং লাগানো হবে।” তৃণমূল এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিউসি-র নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য এবারে অভিনব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত মাসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বাংলার প্রধান দুই শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে নতুন কোর কমিটি ঘোষণা হয়েছিল দলের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথায় রেখে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার পরেও এই দুই শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের কিছু অসাধু শ্রমিক নেতার লাগাতার দুর্নীতির জন্য একদিকে যখন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের কাছে আস্থা হারাচ্ছিল আইএনটিটিইউসি, ঠিক তেমনভাবেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন বেশ কিছু শিল্প সংস্থার কর্ণধারেরা। এই পরিস্থিতিতে দলের শ্রমিক সংগঠনকে দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ করে তোলার জন্যে রীতিমতো আদা জল খেয়ে লেগে পড়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। হলদিয়া এবং দুর্গাপুরের দায়িত্ব পাওয়ার পরই তিনি জানিয়েছিলেন প্রতি ১০ দিন অন্তর একবার করে নিজে পরিদর্শন করবেন এই দুই শিল্পাঞ্চল। আর ঋতব্রতর এই সিদ্ধান্তে যেন ত্রাহি ত্রাহি রব ছুটে গিয়েছে, এতদিন ধরে বিভিন্ন শিল্পসংস্থা এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের একশ্রেণীর অসাধু নেতার।
শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর হাউসে ডিএসপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ, পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। ঋতব্রতকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এবং ডিএসপি বা দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের শ্রমিক সংগঠনের যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া সত্ত্বেও কয়েকজন নেতা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পছন্দের কিছু নিয়োগের তালিকা ধরিয়ে দিয়েছেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল।

কিন্তু এর আগেও দুর্গাপুরে বৈঠকে বসে ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজেদের মতো করে নিয়োগ করবেন এবং সেখানে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না দলের শ্রমিক সংগঠন। কিন্তু তারপরেও দলের এক নেতা ডিএসপি কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের সুপারিশপত্র পাঠিয়ে দেওয়ায় রীতিমত ক্ষুব্ধ তিনি।

ভবিষ্যতে এমন কোন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে আইএনটিটিউসি। নিয়োগ করবেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। সেখানে নাক গলাতে পারবে না আইএনটিটিইউসি। যিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিয়োগের তালিকা দিয়েছেন, সেই নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। তিনি মিউজিক ফেস করার জন্য তৈরি থাকুন। কিছু নেতা বিভিন্ন কারখানায় নিয়োগের তালিকা দিচ্ছেন। সেই অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, যে ঠিকাদার পিএফ, ইএসআই মেরে দিচ্ছে, পে স্লিপ দিচ্ছে না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনও নেতা জড়িত থাকেন, সে দায়ও তাঁদের নিতে হবে। কোন নেতার ব্যক্তিগত দুর্নীতির দায় নেবে না দল অথবা সংগঠন। আইএনটিটিইউসির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। ডিএসপি ও এএসপিতে বায়োমেট্রিক চালু করতে যাঁরা দিচ্ছেন না, তাঁদেরকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আমরা বায়োমেট্রিক চালু করবই।”