ভারতে ২০২১ সাল থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালে বাঘ মৃত্যুর হার ক্রমশ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৬৬৭টি বাঘ মারা গেছে, যার মধ্যে ৩৪১টি অর্থাৎ প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে।
🔍 কোথায় সবচেয়ে বেশি বাঘ মারা যাচ্ছে?
ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)-র রিপোর্ট বলছে, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ এই দুই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বাঘ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে রিজার্ভ এলাকার বাইরে। একমাত্র মহারাষ্ট্রেই ২০২১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ১১১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে রিজার্ভের বাইরে। মধ্যপ্রদেশে এই সংখ্যা ৯০।
📊 বছরভিত্তিক বাঘ মৃত্যুর পরিসংখ্যান:
২০২১: ১২৯টি বাঘের মৃত্যু (রিজার্ভের বাইরে ৬৪টি)
২০২২: ১২২টি মৃত্যু (রিজার্ভের বাইরে ৫২টি)
২০২৩: ১৮২টি মৃত্যু (রিজার্ভের বাইরে ১০০টি)
২০২৪: ১২৬টি মৃত্যু (রিজার্ভের বাইরে ৬৫টি)
২০২৫ (জুলাই পর্যন্ত): ১০৮টি মৃত্যু (রিজার্ভের বাইরে ৬০টি)
📍 ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
মহারাষ্ট্রে ২৩টি
মধ্যপ্রদেশে ১৮টি
কেরালায় ৫টি
তেলেঙ্গানায় ৪টি বাঘ রিজার্ভের বাইরে মারা যায়।
২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে ১৮টি, মধ্যপ্রদেশে ১২টি এবং কেরালা ও উত্তরাখণ্ডে ৪টি করে মৃত্যু ঘটে রিজার্ভের বাইরে।
⚠️ কেন এমনটা ঘটছে?
এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে বাঘরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে, হয় খাদ্যসংকট, বাসস্থান সংকট বা বনভূমি ধ্বংসের কারণে। এর ফলে তারা মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, যার পরিণামে মৃত্যু ঘটছে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে।
🛡️ কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরেও “টাইগার করিডোর” তৈরি করা জরুরি, যাতে বাঘরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি বনদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে বাঘ সংরক্ষণে।