সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সামনেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর এই বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের পুলিশের মহাধ্যক্ষ পদে আস্থাভাজন রাজীব কুমারকেই রাখতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও ইউপিএসসি-র অনুমোদন না মেলায় আজ ৩১ জানুয়ারি অবসরে যেতে হচ্ছে রাজীব কুমারকে। তার আগেই শুক্রবার রাতে নবান্ন থেকে জরুরী বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পদে দায়িত্ব দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্য নিরাপত্তা অধিকর্তা পদে কর্মরত ১৯৯৩ ব্যাচের আইপিএস অফিসার পীযূষ পান্ডেকে।
রাজ্যের মুখ্য নিরাপত্তা অধিকর্তা বা ডিরেক্টর সিকিউরিটি পদে দায়িত্ব পেলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত মনোজ ভার্মা। অন্যদিকে কলকাতার নয়া পুলিশ কমিশনার হলেন সুপ্রতিম সরকার। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে বসানো হল বিনীত গোয়েলকে। আরজি কর আন্দোলনের সময় যে আইপিএস অফিসারকে সরিয়ে মনোজ ভার্মাকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে এডিজি (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) করা হল জাভেদ শামিমকে। শুধু ডিজি বা কলকাতার সিপি বদল নয়, শুক্রবার নবান্ন বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ পুলিশকর্তার বদলির কথা জানিয়েছে। সেই তালিকায় যেমন বিভিন্ন কমিশনারেটের সিপি-রা আছেন, তেমনই রয়েছেন ডিজি (অগ্নি) এবং ডিজি (হোমগার্ড)। রয়েছেন একাধিক এডিজি, বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি-ও।
এছাড়াও ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারেটের সিপি মুরলী ধর হচ্ছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী দায়িত্ব নেবেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার পদে। অনুজ শর্মাকে করা হয়েছে ডিজি (ফায়ার), সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে করা হয়েছে ডিজি (কারা)। ডিজি (হোমগার্ড) করা হয়েছে নটরাজন রমেশবাবুকে।হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীকে ব্যারাকপুরের কমিশনার করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে আকাশ মেঘেরিয়াকে। বিধানগরের সিপি মুকেশকে মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়েছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি অমিত পি জাভালগিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বর্ধমান রেঞ্জের আইজি করে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাওকে। অলোক রাজোরিয়াকে ডিআইডি (ট্রাফিক) থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বারাসতের ডিআইজি করে। বারাসতের ডিআইজি ভাস্কর মুখোপাধ্যায়কে প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ৫২ জন ইন্সপেক্টরের রদবদল করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৭ জনই কলকাতার বিভিন্ন থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসি। এছাড়াও শহরের আটটি মহিলা থানার ওসিরও রদবদল হয়েছে। এ ছাড়াও ১১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ও চারজন মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারেরও লালবাজার বদলি করেছে। সম্প্রতি আনন্দপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর আনন্দপুর থানার অতিরিক্ত ওসিকে বদলি করা হয়েছে। প্রকৃতেশ ঘোষ তপসিয়া থানার ওসির দায়িত্বে। আনন্দপুর থানার নতুন ওসি হলেন হরিদেবপুর থানার ওসি প্রসূন দে সরকার।