শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘এসআইআর-এর ধাক্কায় শ্বশুর যখন বাবা !!!ভোটার তালিকায় স্বামীর বাবা আর স্ত্রী এর বাবা যে একজনই ব্যক্তি, সেটাও এসআইআর এর দৌলতে দেখতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ কে। যদিও বঙ্গেশ্বরীর রাজত্বে কোনোও কিছু অসম্ভব নয়। এসআইআর চালু হবার পরে এই রাজ্যে নিত্য নতুন রঙ্গ তামাশা দেখছে রাজ্যের জনগণ।’ এভাবেই ভোটার তালিকায় দুর্নীতি করে ভুয়ো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু এক্স পোস্টে ভোটার তালিকায় ব্যাপক গরমিল নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে লিখেছেন,
‘এরকম নিদর্শন বর্তমানে দিকে দিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কে কাকে বাবা মা সাজাচ্ছে, কে শশুর কে বাবা সাজিয়েছে, এরকম অনেক তথ্য সামনে আসছে। সঠিকভাবে এসআইআর এর কাজ সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কমে যাবে ও জনবিন্যাস সংশোধিত হবেই…। এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, আমি নির্বাচন কমিশন কে অনুরোধ করবো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’
এরপরেই বাংলার ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পাশাপাশি দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬৫ নং বুথের ভোটার মণিরুজ্জামান মণ্ডল ও আর্জিনা মণ্ডল, দুজন হলেন স্বামী স্ত্রী। মণিরুজ্জামাল মণ্ডল (ওরফে জামাই, এলাকায় সকলে ওনাকে এই নামেই চেনে) আবার ঐ বুথেরই তৃণমূলের বড় নেতা আর আর্জিনা মণ্ডল হলেন আইসিডিএস কর্মী ও পাশাপাশি তৃণমূল কর্মী।
দেখা যাচ্ছে যে দুজনের পিতার নাম মিজানুর মণ্ডল, অর্থাৎ শ্বশুর কেই জন্মদাতা বাবা হিসেবে ভোটার তালিকায় দেখানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে যে আসলে মিজানুর মণ্ডল হলেন আর্জিনা মণ্ডলের জন্মদাতা পিতা। উক্ত বুথটি আবার রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বাসুদেব ঘোষের বুথ। এবং বাসুদেব ঘোষের পুত্রই আবার হলেন ঐ বুথের বিএলও। এই মনিরুজ্জামান মণ্ডল আবার তৃণমূলের নেতা বাসুদেব ঘোষের ডান হাত বলে এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ যেটা উঠছে তা হলো গিয়ে এই বিএলও-ই কারসাজি করে মনিরুজ্জামান মণ্ডল এবং মিজানুর মণ্ডলকে ম্যাপিংএ বাবা ও ছেলে হিসেবে দেখিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো ভোটারদের ভোটার তালিকায় রাখতে এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসছে। দিকে দিকে ভাড়া করা বাবা মা’র ছড়াছড়ি, এখানে আবার শশুর মশাই কেই বাবা সাজাচ্ছেন মনিরুজ্জামান মণ্ডলের।

সঠিকভাবে এসআইআর এর কাজ সম্পন্ন হলে এই ধরনের ভুয়ো ভোটার ধরা পড়বে, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যাও কমে যাবে, মোদ্দা কথা হল জনবিন্যাস সংশোধিত হবেই… আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএলও এবং ঐ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি এবং এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এফআইআর দায়ের করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।