শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে সরাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা আধিকারিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমন্বিত চক্রান্ত। রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ এমনই বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার দাবি, কুলতলী, জয়নগর বিধানসভা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-দের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। কুলতলীর বিডিও যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রয়েছেন তার কথোপকথন নমুনা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। যদিও পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি সকালের শিরোনাম।
শুভেন্দু বলছেন, মৃত ব্যক্তিদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে এবং যে ভোটাররা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন তাদের তথ্যও অপরিবর্তিত রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিধায়কের প্রশ্ন – নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অমান্য করে প্রশাসন আদৌ কি এই রকম নির্দেশ দিতে পারে? এই ইস্যুটি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘এসআইআর এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। তাই তার প্রশাসনকে দিয়ে মৃত ভোটারদের নাম যাতে কাটা না যায়, আর ভোটের সময় তার শান্তির বাহিনী কে দিয়ে ঐ ভোটগুলি যাতে ছাপ্পা মেরে জেতা যায় সেই পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি।
নিচের অডিওটি সকলে শুনুন, আর দলদাস প্রশাসনের কীর্তি দেখুন। এই ভয়েস ক্লিপিংটি ফলতার-ই একজন বিএলও এর যিনি পরিষ্কার অভিযোগ করছেন ফলতার বিডিও ও এআরও , গতকাল বিকেল ৩ টের পর সমস্ত বিএলও দের ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো মৃত ব্যক্তির নাম কাটা যাবে না। অথচ পরিবারের লোক মৃতদের এনুমারেশন ফর্মে ডিক্লিয়ারেশন দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। সেই ফর্ম ও আপলোড করা যাবে না। বিএলও -দের বলা হচ্ছে ফর্মগুলি আপলোড না করে আনম্যাপিং করে ছেড়ে দিতে, কেনো? যাতে পরে জচ্চুরী করা যায়। এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
এদিকে জাহাঙ্গীর বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বিএলও দের হাতে কোনো ডেথ সার্টিফিকেট দেবেন না। অর্থাৎ খেলাটা খুব পরিষ্কার বিডিও, এআরও এদেরকে ব্যবহার করে, গুন্ডা দিয়ে ধমকে চমকে মৃত ভোটারদের কে ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন অপচেষ্টা চলছে।
আমি সাধারণ মানুষ এবং বিএলও দের বলব আপনারা ভয় পাবেন না। আইনের আওতায় থেকে আপনারা সকলে এসআইআর -এর কাজে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করুন। তৃণমূলের দলদাস বিডিও এবং এআরও দের বলব আপনারা সাবধান হন, নচেৎ এর ফল আপনাদের ভুগতে হবে। বিজেপি গোটা বিষয়টার উপর নজর রাখছে, এবং আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করব এই গুরুতর অভিযোগটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিডিও এবং এআরও দের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’