ব্রেকিং
  • Home /
  • আন্তর্জাতিক /
  • US strike in Venezuela : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরো আটক: বিশ্ব কূটনীতির দড়ির খেলায় ‘মাপা’ ভারতের অবস্থান

US strike in Venezuela : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরো আটক: বিশ্ব কূটনীতির দড়ির খেলায় ‘মাপা’ ভারতের অবস্থান

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেলসমৃদ্ধ এই লাতিন আমেরিকার দেশে আমেরিকার হস্তক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং বিশ্ব কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই উত্তাল....

US strike in Venezuela : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরো আটক: বিশ্ব কূটনীতির দড়ির খেলায় ‘মাপা’ ভারতের অবস্থান

  • Home /
  • আন্তর্জাতিক /
  • US strike in Venezuela : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরো আটক: বিশ্ব কূটনীতির দড়ির খেলায় ‘মাপা’ ভারতের অবস্থান

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেলসমৃদ্ধ এই লাতিন আমেরিকার দেশে আমেরিকার হস্তক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং বিশ্ব কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই উত্তাল আবহেই প্রথমবার মুখ খুলল ভারত—তবে বরাবরের মতোই অত্যন্ত সতর্ক ও মেপে।
শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বিমানহানা চালানো হয়। ভেনেজুয়েলার দাবি, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ির বেডরুম থেকেই টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় মার্কিন সেনা। এই ঘটনাকে ‘সরাসরি আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে কারাকাস। তাদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নিতেই এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যতদিন না ভেনেজুয়েলায় একটি নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন আমরাই দেশটি পরিচালনা করব।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য কার্যত ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত বলেই ব্যাখ্যা করছে আন্তর্জাতিক মহল। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প গড়ে তুলেছিল আমেরিকাই, আর ভবিষ্যতে সেই তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রিও করবে মার্কিন সংস্থাগুলি।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে চিন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া-সহ একাধিক দেশ। চিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বেজিং। রাশিয়াও এই হামলাকে ‘মার্কিন আগ্রাসন’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে। লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া ও আর্জেন্টিনাও আমেরিকার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ।
এই বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের মধ্যেই ভারতের অবস্থান নজর কেড়েছে। রবিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের মঙ্গল ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাই, যাতে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভারত গোটা ঘটনার উপর নিবিড় নজর রাখছে।
তবে লক্ষণীয় বিষয়, এই বিবৃতিতে কোথাও সরাসরি আমেরিকার নাম করে নিন্দা করা হয়নি। বরং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই আলোচনার পথে সমাধানের কথা বলেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সে দেশে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘মাপা প্রতিক্রিয়া’ ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতিরই প্রতিফলন। একদিকে রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভেনেজুয়েলার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আমেরিকাকে সরাসরি চটাতে নারাজ মোদি সরকার।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। দায়িত্ব নিয়েই ডেলসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভেনেজুয়েলা কোনও সাম্রাজ্যের দাসত্ব করবে না। মাদুরোই আমাদের একমাত্র নেতা।” তিনি অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির মুক্তির দাবি জানান।


অন্যদিকে, মার্কিন সেনার হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে করা পুরনো একটি মামলায় তাঁকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই এই মামলাটি দায়ের হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ শুধু লাতিন আমেরিকাতেই নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, আর ভারত তার কূটনৈতিক ভারসাম্য কতদিন ধরে রাখতে পারে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

আজকের খবর