কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী নয়।’ বুধবার সকালে নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আগামীদিনে প্রকৃত পরিবর্তন হলে নন্দীগ্রাম খুশি হবে।’
এদিন আন্দোলনের স্মৃতি উসকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি লাভবান কে হয়েছেন? শুভেন্দুর দাবি, এই আন্দোলনের ফলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন, অথচ আজ তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্য জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় গদ্দার’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজীব গান্ধী তাঁকে রাজনীতিতে জায়গা দিলেও তিনি শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাকেননি।
২০০৭ সালে ভূমি আন্দোলন করতে গিয়ে ৭ জানুয়ারি রাত জেগে পাহারা দেওয়ার সময় খেজুরি নন্দীগ্রাম সংযোগস্থলে ভাঙাবেড়া ব্রিজের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে। তারপর থেকে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে প্রতিবছর ৭ জানুয়ারি ভোরে ভাঙাবেড়ায় শহিদ স্মরণ করে তৃণমূল। আজ ভোর পাঁচটা নাগাদ নন্দীগ্রামে শহীদ স্মরণসভা আয়োজন করা হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং দলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। সভা থেকেই বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ঋজু দত্ত। শহীদ স্মরণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঋজু দত্ত দাবি করেন, নন্দীগ্রামের শহীদদের লাশের উপর দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ঘটনার সময় হত্যার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের নিয়েই আজ শুভেন্দু অধিকারী শহীদ বেদীতে মাল্যদান করছেন।

এদিন শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কটাক্ষ করে ঋজু দত্ত বলেন, এলাকার বিজেপি নেতারা চাঁদা তুলে শুভেন্দু অধিকারীর চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে তাঁর মাথার রোগ সারানোর চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন দাবিও তোলেন তিনি। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বাংলার সবচেয়ে রেজিস্টার্ড চোর’ এবং ‘বাটপাড়’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র। সেবাশ্রয় ক্যাম্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঋজু দত্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নন্দীগ্রামকে ‘স্বাধীন’ করার ডাক দেওয়া হবে।