রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
ফুটপাতে হাঁড়ির উপরে লাল কাপড় টাঙিয়ে বিরিয়ানি বিক্রি করতেন বাপি আর ডলি। ধীরে ধীরে বিরিয়ানির স্বাদে সাধারণ মানুষ মাতোয়ারা হয়ে যাওয়ার পরে তাঁরাই খুলে ফেলেন বাংলার সেরা বিরিয়ানি বাপি ব্র্যান্ড।
কিন্তু বাবা-মায়ের ব্যবসায় মন বসছিল না ছেলে অনির্বাণের। বিরিয়ানি সম্রাট বলে নিজেকে দাবি করা অনির্বাণই গ্রেফতার হলেন থানার সামনে বউকে পিটিয়ে।
ড্রাইভারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন স্ত্রী! পালিয়ে পুরীর মন্দিরে গিয়ে বিয়েও করেছেন বলেই অভিযোগ বিখ্যাত বিরিয়ানি ব্যবসায়ী অনির্বাণ দাসের। এসব জটিলতার মাঝে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিদ্ধ হলেন তিনি নিজেই। অন্যদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনির্বাণের স্ত্রীর প্রেমিককেও। যদি আদালতে তোলা হলেই অনির্বাণের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। রাগে-দুঃখে এরপরই স্ত্রীর গোপন স্বীকারোক্তি সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস করেছেন অনির্বাণ।

সম্প্রতি স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, ড্রাইভার সমীর সেনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর স্ত্রীর। প্রেমিক যুগল একসঙ্গে বাড়ি ছাড়ে। পুরীতে গিয়ে তাঁরা নাকি বিয়েও করে। পরিকল্পনা ছিল একসঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার। কিন্তু কোনও কারণে এলাকায় ফেরেন তাঁরা। বিমানবন্দর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে যুগলকে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। অভিযোগ, থানার সামনেই স্ত্রীকে থাপ্পড় মারেন অনির্বাণ। এরপরই স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা করেন মহিলা। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় অনির্বাণকে। তাঁর স্ত্রীর দাবি, অনির্বাণের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তাঁর স্ত্রী শ্রমণা দাসের অভিযোগ,দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছেন তাঁর স্বামী। তাঁর দাবি, “অনেক মারধর সহ্য করেছি। সব সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি মারধর করে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নিই, আর ওর সঙ্গে থাকব না। এখন ড্রাইভারের নামে মিথ্যে মামলা করে আমাকেও কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।”
সম্প্রতি অনির্বাণ অভিযোগ করেন, পরিবারের সোনা নিয়ে তাঁর স্ত্রী ড্রাইভারের সঙ্গে মুম্বই পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তিনি এয়ারপোর্টের আগেই তাঁদের আটকান। তাঁর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের গাড়ির চালককে। তাঁর স্ত্রীকে যখন থানায় ডেকে পাঠানো হয়, তখন থানার বাইরেই স্ত্রীর উপর চড়াও হয় অনির্বাণ দাস।
অনির্বাণের বাবা-মা বাপি দাস ও ডলি দাস ফুটপাথের ধারে দোকান বানিয়ে শুরু করেছিলেন বিরিয়ানির ব্যবসা। এরপর রেস্তোরাঁ খোলেন। ডি-বাপির বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা ব্যারাকপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকাতেও।
এরপরেই বাপি ও ডলির বড় ছেলে অনির্বাণ সোদপুর ও মধ্যমগ্রামে শাখা খোলেন, তখনই বিপত্তি। নাম ব্যবহার নিয়ে লড়াই পৌঁছয় আদালত পর্যন্ত। আদালত মধ্যমগ্রামে অনির্বাণের খোলা দোকানটির ক্ষেত্রে ডি বাপি বিরিয়ানি ব্র্যান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারপরেই অনির্বাণ নিজের নামেই দোকান খোলেন। নাম রাখেন ‘অনির্বাণ বিরিয়ানি অ্যান্ড ক্যাটারার’। তবে পারিবারিক অশান্তির ছায়া থেকে বের হতে পারেননি তিনি।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই সোশাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন অনির্বাণ। ফেসবুকে ড্রাইভারের সঙ্গে স্ত্রীর ছবি পোস্ট করেই থামেননি তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে স্ত্রী যে বিয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন, সেই চ্যাটও ফাঁস করেছেন যুবক। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে স্বামীর কাছে বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলেই জানিয়েছেন বধূ। পাশাপাশি তাঁকে নিজের মতো করে ভালো থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। যা নিয়ে তোলপাড় সোশাল মিডিয়া।