সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
২৪ ঘন্টাও কাটেনি মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি দলীয় পতাকা এবং ইস্তেহার প্রকাশ করেছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নতুন পার্টির নাম ঘোষণার দিনেই আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
তিনি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছিলেন মুর্শিদাবাদের মঞ্চ থেকে। তবে সেই ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এবার বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী বদল হুমায়ুনের।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকালই মুর্শিদাবাদে বিরাট আয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিধায়ক তাঁর নতুন দলের নাম দিয়েছেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেই তাঁর নতুন দলের টিকিটে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান। সেই সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নামও আগে ভাগে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। যার মধ্যেই ছিল বালিগঞ্জ কেন্দ্রের নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম।
ভরা মঞ্চ থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিশা চট্টোপাধ্যায় নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন। সেই ঘোষণা পরপরই নিশা চট্টোপাধ্যায়ের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত বদল করেন হুমায়ুন।
তিনি জানিয়েছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নতুন প্রার্থীর নাম তিনি ঘোষণা করবেন। এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘উনি (নিশা চট্টোপাধ্যায়) একজন সেলেব্রিটি, এটাই জানতাম। কিন্তু প্রার্থী ডিক্লেয়ার করার আধঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের আইটি সেলের বা নানা অনলাইনে যেসব ছবি ভাইরাল হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় ওকে পাঠানোর জন্য মানুষ আমাকে ভুল বুঝতে পারেন। তাই আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওকে প্রার্থী রাখব না। আমি এক সপ্তাহের মধ্যে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করব। তৃণমূলের লোকজনই এই সব করেছে। প্ল্যান করে ওকে মঞ্চে তুলে এই সব করেছিল। কিন্তু আমার তো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি।’
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের এই নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে প্রাক্তন সাংসদ বলেছেন, ‘তারা কী করবে তাদের ব্যাপার। ধর্মীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বেশি। মসজিদ তৈরির কথা বলা হয়েছিল। মানুষ সমর্থন করেছিল। হাজার হাজার মানুষ দান-ধ্যান করেছেন নিঃস্বার্থে। গরিব মানুষ ইট দান করেছেন। এখন মসজিদ দূরে থেকে গেল, পার্টি আগে চলে যাচ্ছে। যখন সব কিছু হাতে আছে, তখন মজসিদ তৈরিতে দেরি কেন? শুধু পার্টি তৈরি করাই নয়, প্রার্থীর নাম পর্যন্ত ঘোষণা করে দিয়েছে। তাহলে কী পার্টি করার জন্য মসজিদ তৈরির প্রকল্প? এটা স্পষ্ট হচ্ছে না।’