শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় এখনো বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়নি। তার আগেই একাধিকবার বাংলা থেকে ভোরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবারে আরও একবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ। বুধবার বিজেপির নেতা কর্মীদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করবেন নদীয়ার মায়াপুরে।
তার আগেই দিল্লিতে ঝটিকা সফরে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক করলেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। রাজধানীতে পা রেখেই সন্ধ্যায় শাহের বাসভবনে পৌঁছে যান শুভেন্দু। এরপর প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। যদিও জনসমক্ষে আলোচনার কেন্দ্র নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি উভয় পক্ষ। তবে মিনিট তিরিশের আলোচনা বাংলা ও বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই হয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে বিজেপির বাংলার সাংসদদের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের রাজধানীর বাসভবনে বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এই বৈঠকের সপ্তাহ খানেকের মাথায় মুখোমুখি শাহ-শুভেন্দু। যা কার্যত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ।
জানা গিয়েছে, শুধুই রাজ্যের ভোট নয়, আলোচনা হয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ নিয়েও। বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির তরফে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে রয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু সেই মেয়াদ এবার ফুরিয়ে যাওয়ার। তার মধ্যেই আবার সম্প্রতি সাংগঠনিক স্তরে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন শমীক। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে আবার নতুন করে রাজ্যসভায় তাঁকে ফেরানো হবে কিনা শাহি-বৈঠকে আলোচনা হয়েছে সেই নিয়েও। যদি না-ফেরানো হয় সেক্ষেত্রে রাজ্যসভা ভোটের বাংলার তরফে প্রার্থী কে হবেন, আলোচনার অভিমুখ থেকেছে সেই দিকেও।

চলতি বছর এপ্রিল মাসে দেশ জুড়ে রাজ্যসভার ৩৭টি আসন খালি হচ্ছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি। যদিও মৌসম বেনজির নূরের ইস্তফার কারণে পাঁচটির মধ্যে একটি আসন জানুয়ারি মাস থেকে খালিই রয়েছে। এই আসনগুলিতে ভোটাভুটি আসন্ন। চারটি আসনে শাসকদল তৃণমূল এবং একটি আসন বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে পারে, যদি না কোনও পক্ষ অতিরিক্ত এক জন প্রার্থী দেয়। ছ’জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলে তবেই রাজ্যসভার ভোট হবে।
এছাড়াও বাংলার ভোটের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে উভয়ের মধ্যে।