সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আগামী লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসছে না বিজেপি, সেই কারণেই ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা করছে।’ শনিবার বীরভূমের হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের প্রচারসভা থেকে এমন দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজ্য সরকারের একাধিক খাতে আর্থিক সংস্থান বন্ধ করে রেখে দিয়েছে বলে বার বার দাবি করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমাদের দু’লক্ষ কোটি টাকা বিজেপি আটকে রেখেছে। তিন মাসের মধ্যে সেই টাকা নিয়ে নিয়ে আসব। একেকটা বিধানসভায় কয়েকশো কোটি টাকার আরও উন্নয়ন হবে।’
পাশাপাশি, জেলায় জেলায় বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। সেই সব ভোটারদের উদ্দেশে এ দিনের সভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, কেউ চিন্তা করবেন না। সবার ফাইল করা হচ্ছে। ৬ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। আমরা মাঠে-ঘাটে, সংসদে, কোর্টে সর্বত্র লড়াইয়ে করেছি। আমাদের পঞ্চায়েত স্তরে যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। প্রত্যেকের নাম তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
লোকসভা নির্বাচনের এখনও তিন বছর বাকি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শরিক দলের সমর্থনের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এ দিনের সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেকের বক্তব্য, ‘বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠন হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আগামী দিন এদের সরকার থাকছে না, সেই জন্যে ভোটে চুরি শুরু করেছে। লোকসভা নির্বাচনের পরে নতুন সরকার দিল্লিতে তৈরি হবে, নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বাংলার মানুষ।’
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা কি জানেন বিজেপির আসল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ কী? এর একটি ইঞ্জিন চলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবহারের মাধ্যমে; নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে সৎ আধিকারিকদের বদলি করা এবং ভোটার তালিকা কারচুপির উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে বহিরাগতদের আমদানি করার উপর ভিত্তি করে। আর বিজেপির দ্বিতীয় ইঞ্জিনটি চলে মিম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো স্থানীয় দালালদের কাজে লাগিয়ে—যাদের উদ্দেশ্য হল সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দেওয়া, অশান্তি সৃষ্টি করা, ভোট ভাগ করে দেওয়া এবং শেষমেশ বিজেপির হাতেই সুবিধা তুলে দেওয়া। কিন্তু বাংলার মানুষ এই নোংরা খেলাটিকে পুরোপুরি ধরে ফেলেছে।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির নোংরা খেলায় বিজেপি এখন সিদ্ধহস্ত। দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রে তারা এর মহড়া সেরে নিয়েছে। আর এখন বাংলায় তারা খেলছে আসল ম্যাচ।’ তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে যেখানে প্রায় ৪৩ লক্ষের কিছু বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন, সেখানে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে আরও ৪০ লক্ষের বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন। একইভাবে দিল্লিতেও চার বছরে যুক্ত হওয়া ভোটারের সংখ্যার প্রায় সমান ভোটার মাত্র সাত মাসেই তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।