সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছি। আমরা দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না। তাছাড়াও সিইএসসিকে বলেছি, পাঁচ লক্ষ টাকা করে দিতে, কারণ ওরাও দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না।’ এভাবেই কলকাতায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃতদের পরিবারের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, পরিবারকে আর্থিক সাহায্য হিসেবে রাজ্যের তরফে তুলে দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকা। সিইএসসি চাকরি না দিলে মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমর্গাডের চাকরির আশ্বাস দিলেন তিনি।
সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতায় বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে এক মৃতের পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন তিনি। দুপুরে ভবানীপুরে পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে রাজ্যের তরফে। সিইএসসিকে আমি পরিবারের একজনে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছি, তবে ওরা না দিলে রাজ্যের তরফে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি এদিন ফের তিনি সিইএসসিকে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেন।
তৃতীয়াতে একডালিয়া থেকে উদ্বোধন শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন, ৪০টা পুজো উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েও কলকাতার গতকালের দুর্যোগ, পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার রাতভর বৃষ্টিতে গতকাল শহর শহরতলির যে অবস্থা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অতীতে শেষ কবে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল শহরবাসী, তা স্মৃতি হাতড়েও ঠাওর করা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। বললেন, ‘বাঁধ ভাঙা বৃষ্টি, এই বৃষ্টি দীর্ঘদিন হয়নি। ১৯৭৮ সালেরও বেশি।’ একডালিয়ার পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যাতে দুর্যোগ থেকে মুক্তি মেলে। কলকাতাটা বাংলার ঠিক নৌকার মতো।’ তবে কলকাতার জল জমা নিয়ে এদিনও তিনি কেন্দ্রকেই দুষলেন তিনি। বললেন, ‘বিহার-উত্তরপ্রদেশের গঙ্গার জল চলে আসছে আমাদের রাজ্যে। কিন্তপ ২০ বছর ধরে কোনও ড্রেজিং হয় না। ড্রেজিং আমাদের হাতে নেই। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। পাঞ্চেতের জল ঢোকে। আমি যখন নবান্নে যাই, গঙ্গা দেখতে দেখতে যাই, কতটা জল রয়েছে। ক’দিন আগে দেখেছিলাম, গঙ্গা টইটুম্বুর, আমি ভাবি, এত জল ছাড়ছে? সাত ঘণ্টার মধ্যে আমরা জল ক্লিয়ার করতে পেরেছি। এটাই অনেকটা। এটা মানুষের জন্যই সম্ভব হয়েছে। কাল রাত ২টো পর্যন্ত খবর নিয়েছি। আবার জল ঢুকছে কিনা দেখার জন্য। কলকাতার মেজর এলাকায় জল নামিয়ে দিয়েছি।’ তবে আজ সকালেও শহরের একাধিক জায়গায় এখনও জল জমে রয়েছে।বিশেষত ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, কলেজ স্ট্রিট, বালিগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। মঙ্গলবার বিধাননগর, সল্টলেক, করুণাময়ী- গোটা অফিসপাড়ার পরিস্থিতি ছিল ভয়ঙ্কর। তবে এই এলাকায় জল জমা নিয়ে কিছুটা হলেও মেট্রোর গাফিলতিকেও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মেট্রোর কাজ হচ্ছে। ফলে বালির বস্তা, পাইপ সব পড়ে রয়েছে। অফিস পাড়ার গিয়ে দেখলাম, সল্টলেক, বিধাননগরে প্রচুর জল। আগেও মেট্রোকে বলা হয়েছিল, গোটা এলাকার পরিস্কার করে দিতে। কোথাও তুলে নিয়ে রাবিশ ফেলতে। পুজোর সময়ে ওখানে ফেলে রাখা যাবে না। অনেক সময়েই নালাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যেকটা পাড়ায় ডাস্টবিন করে দেওয়া হয়েছে, তারপরই বাড়ির ময়লা, ইট বালি, সিমেন্ট সব নালায় ফেলা হচ্ছে।’
অন্যদিকে, দূর্গাপুজোর আগে রাজ্য মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী পুজো চলাকালীন সমস্ত মন্ত্রীকে সতর্ক এবং সচেতন থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি।

রাজ্যে শান্তি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাজপুর-ডানকুনি-রঘুনাথপুর অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের জন্য পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেডকে (ডাব্লুবিআইডিসি) ২০০ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। লজিস্টিক্স ক্ষেত্রকে শিল্প মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা, যা বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনকেডিএ) অধীনে ১৫টি শূন্য পদে নিয়োগের প্রস্তাবও পাশ করা হয়েছে।