সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘গণতন্ত্রের মাধ্যমে বদলা নিন, বাংলা থেকে রাজনৈতিকভাবে জব্দ করে বিজেপিকে তাড়িয়ে দিন। ওদের শূন্য করে দিন।’ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার বিধানসভা থেকে সিপিএমকে শূন্যে পরিণত করার পরে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকেও বাংলার রাজনীতিতে শূন্য করার ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সমুদ্রগড় হাইস্কুল ফুটবল ময়দান থেকে সভা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিক উন্নয়ন কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে করে টাকা নিয়ে আসা হচ্ছে বলে সুর সপ্তমে তোলেন তৃণমূল যাচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসারের সুপ্রিমো। আর সেই টাকা বিজেপির পকেটে গাড়িতেও বাংলায় টাকা ঢোকানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই টাকা বিজেপির কাছে যাচ্ছে এবং তা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এখান থেকেই সুর সপ্তমে তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘বিজেপি নেতারা ৫০ জন সিআরপিএফ, গাদা গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন। এত পয়সা পাচ্ছেন কোথায়? কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে টাকা আসছে। যাচ্ছে বিজেপির পকেটে। আর টাকা আসছে কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসারের গাড়ির মাধ্যমে। সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে বিজেপি। মানুষের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। নাম কেটে অধিকার ছেঁটে কিছু করতে পারবেন না মোটা ভাই। যদি কেউ ভোট আটকায়, মেয়েরা হাতে খিলের ঝাড়ু রাখুন। রাস্তা ঝাঁট দিতে দিতে যাবেন। কিন্তু অধিকার ছাড়বেন না। তোতাপাখি কমিশন রটিয়ে দেবে তৃণমূল হারছে, বিজেপি জিতছে, বিশ্বাস করবেন না, শেষ পর্যন্ত কাউন্টিংয়ে থাকবেন।
ওরা বাইরের ফোর্স আনছে… ওরা যদি গট গট করে যায়, আপনারা কট মট করে তাকাবেন। আজকে আমি শুনলাম, ২০০ গাড়ি করে অযোধ্যা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ নিয়ে আসছে আপনাদের ওপর হামলা করার জন্য়। কেউ ভয় পাবেন না। এটা ১৫ দিনের ছলনা। ১৫ দিনের খেলা। ২৫ দিনের খেলা। তারপরই বুঝবে, ঠেলার নাম বাবাজি। ঠেলার নাম বাবাজি, তারা বুঝবে।’
গত কয়েক মাস ধরেই দেশের একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অপরাধে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা এবং হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার প্রেক্ষিতে বাংলাভাষী মানুষজনকে অনুপ্রবেশকারী বলা বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সোনার বাংলার কথা বলতে বলেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, ‘টেলিপ্রম্পটার দেখে বলছেন ‘সুনার বাংলা’, আর বাংলায় কথা বললে ভিন্রাজ্যে মারধর করা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা দিল্লিতে বসে এআই ব্যবহার করে একপাক্ষিক ভাবে সবার নাম কেটেছে, এর বদলা হবে কি হবে না? মোদি সরকার যখন সবার থেকে সব কেড়ে নিয়েছিল, তখন আমি ভেবেছিলাম মহিলাদের অধিকার থাকা দরকার। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম।’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কলকাতা উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পাকিস্তান বলছে, কলকাতা উড়িয়ে দেবে! তা শুনে কেন চুপ করে রইলেন আপনারা? প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জবাব দিন। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা তো সবসময়ে কেন্দ্রের পাশে থাকি ভারতীয় হিসেবে। কলকাতা আক্রমণের কথা বললে আমরা মানব না।’ পাশাপাশি মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোথাবাড়ির ঘটনায় যে মূল অভিযুক্ত, তাকে ধরেছিল আমাদের সিআইডি। দিল্লি পুলিশ নয়। কিন্তু বিজেপি নেতাদের বাঁচাতে তাকে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, হায়দরাবাদ থেকে লোক এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে সোমবার সমুদ্রগড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপির নেতারা দিল্লিতে বসে এআই ব্যবহার করে একপাক্ষিক ভাবে সবার নাম কেটেছে, এর বদলা হবে কি হবে না? মোদি সরকার যখন সবার থেকে সব কেড়ে নিয়েছিল, তখন আমি ভেবেছিলাম মহিলাদের অধিকার থাকা দরকার। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। একশো দিনের কাজ করিয়ে টাকা দেয়নি। আমরা আপনাদের টাকা দিয়েছি। অভিষেক-সহ আমাদের সাংসদ-বিধায়করা দিল্লিতে গিয়েছিল টাকার দাবিতে, তখন তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। আমরাই আপনাদের পাশে ছিলাম। আর এরা এখানে এসে এখন সেন্ট্রাল ফোর্স আর ৫০টা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তৃণমূলের নেতাদের সিকিউরিটি তুলে নিচ্ছে।’