চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলনকে ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আসন্ন পরীক্ষার আগে পুলিশের তরফে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনের নামে রাজ্যে বড়সড় অশান্তি তৈরির ছক কষা হচ্ছিল। সেই কারণেই বিধাননগরে আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের প্রকাশ করা অডিও ক্লিপ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যে চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে ফের চাকরিতে ফিরতে পারেন, তার জন্য শিক্ষা দপ্তর পরীক্ষার আয়োজন করেছে। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা এডমিট কার্ড পেলেও অভিযোগ উঠেছে, কিছু কার্ডে “ক্যান্সেল” লেখা রয়েছে। এই প্রতিবাদ জানাতেই ১৮ তারিখে বিধাননগরে আন্দোলনের ডাক দেন একাংশ প্রার্থী।
তারা পুলিশের কাছে অনুমতির আবেদন জানালেও বিধাননগর পুলিশের ডিসি অনীশ সরকার জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত না মানায় এই অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
পুলিশের বিস্ফোরক দাবি
পুলিশের তরফে প্রকাশিত দুটি অডিও ক্লিপে শোনা গিয়েছে—
আন্দোলনের দিন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার পরিকল্পনা।
পেট্রোল নিয়ে এসে লাইটারের সাহায্যে আগুন ধরিয়ে হামলা চালানোর ছক।
ভবিষ্যতের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে সকেট বোমা ও পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা।
সারা কলকাতায় অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি বড় ষড়যন্ত্র।
এই তথ্য হাতে আসার পরই আন্দোলনের অনুমতি বাতিল করে পুলিশ।
পুলিশের কড়া প্রস্তুতি
পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ তারিখের আন্দোলনের দিনে জলকামান, টিয়ার গ্যাস, র্যাফ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যাতে কোনওভাবেই পরিকল্পিত অশান্তি সফল না হয়। ইতিমধ্যেই বিধাননগর থানায় একটি সুয়োমোটো মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, অডিও ক্লিপে যাদের কণ্ঠস্বর ধরা পড়েছে, তাদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। প্রয়োজনে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের সতর্কবার্তা
ডিসি অনীশ সরকার আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে বলেছেন— “যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চান, তারা যেন কোনোভাবেই প্ররোচনায় না পা দেন। একাংশের ষড়যন্ত্র রাজ্যের শান্তি নষ্ট করতে পারে।”
শিক্ষক আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের এই বিস্ফোরক দাবি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে চাকরি হারানো শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি, অন্যদিকে পুলিশের আশঙ্কা— আন্দোলনের আড়ালে অশান্তি। এখন দেখার বিষয়, ১৮ তারিখের আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে প্রশাসন।