সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার যারা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় বহাল করা এখনও বাকি আছে। আমি মনে করি যে তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত। পরে নাম তুলে কী হবে, তারা তো ভোট দিতে পারবে না।’ এভাবেই বুধবার ভবানীপুর বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে নিজের মনোনয়নপত্র পেশ করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার সকাল এগারোটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন পত্র পেশ করতে যান তৃণমূল নেত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, দুই ভাই, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ বক্সীরা। মমতার সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হাঁটেন শয়ে শয়ে তৃণমূল সমর্থরা। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে মাত্র চারজনকে সঙ্গে নিয়ে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন তিনি।
মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার পরই জনতার মধ্যে থেকে স্লোগান উঠল জয় বাংলা। মমতা বলেন, ‘আমার ধর্ম, কর্ম, আন্দোলন সবকিছুই ভবানীপুরকে ঘিরে। ছোটবেলা থেকে এখানেই আছি। এখান থেকেই আমার সবকিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষদের আমার ধন্যবাদ, নমস্কার, সেলাম। আমি বাংলার মানুষের কাছে ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন করছি। আমি নিশ্চিত যে আমরাই সরকার গঠন করব।’
এসআইএর প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘মনে দুঃখ নিয়ে বলছি বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। আমি এখনও বলব, ১.২ কোটি ভোটারের মধ্যে মাত্র ৩২ লক্ষ নাম উঠেছে। এটাও সম্ভব হয়েছে কারণ আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলাম বলে। বাদবাকী ৫৮ লাখ খোলাই হয়নি। সেই অধ্যায়টা এখনও শুরুই হয়নি। অবশ্যই কিছু ডুপ্লিকেট ভোটার বা যারা মৃত তাদের নাম বাদ যাবে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার যারা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় বহাল করা এখনও বাকি আছে। আমি মনে করি যে তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত। পরে নাম তুলে কী হবে, তারা তো ভোট দিতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে যে যারা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছেন তাঁরা প্রকৃত ভোটার। যাদের নাম এখনও বহাল করা হয়নি তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন। সেখানেই বিষয়টি সেটেলড হবে। এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার মানে কী? এটি নিয়ে আমরা আবার আদালতে যাব। আবার বিচার চাইব।’