শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘আমরা অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসুর গ্রেফতার চাই। যুবদের আবেগে আঘাত করেছেন। টাকাগুলো ফেরত দিন। দর্শকদের পিটিয়েছে পুলিশ, জেলে ঢোকান হয়েছে। তাঁদের জামিন দেওয়া হোক।’ রাজের ক্রীড়া মন্ত্রীপদ থেকে অরূপ বিশ্বাস ইস্তফা দেওয়ার পরেও তাকে এইভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না বলে দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যুবভারতীকাণ্ডে ছবি বিতর্কে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।
এদিকে, আবার মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে দেওয়া প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি রিপোর্ট জমা, আর তারপরই ডিজিপি রাজীব কুমারের শোকজ। যুবভারতীকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপ। কিন্তু এই সবই ‘আইওয়্যাশ’ বললেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার দুপুরে শুভেন্দু বলেন, যুবভারতীতে শনিবার মানুষের যে ভোগান্তি হয়েছে তার মাশুল দিতে হবে। শুধু ইস্তফায় কাজ হবে না। মেসির কলকাতার ইভেন্ট যেভাবে পণ্ড হয়েছে, তাতে অনেক কিছু ক্ষতি হয়ে গেছে। দর্শকদের মানসিক ট্রমা হয়েছে, অরাজক ঘটনায় ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পেয়েছে, এতদিনের স্বপ্ন, সাধারণ মানুষের এতগুলো টাকা নষ্ট হয়েছে, সেই সঙ্গে বাংলার মুখ পুড়িয়েছে অপদার্থরা। এর জন্য দায় নিশ্চিত করে গ্রেফতার করতে হবে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় প্রশাসন আয়োজকদের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তাতে কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ডিজিপি রাজীব কুমারকে শোকজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেটাকে ‘আইওয়্যাশ’ বলেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘ডিজিপি রাজীব কুমারকে শোকজ আইওয়্যাশ। রাজীব কুমার এই রাজ্যের অলিখিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’
রাজ্যজুড়ে তীব্র চাপের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গাড়ি ঘোরাতে বাধ্য হলেন বলে দাবি করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে এই প্রথম গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। মেসিকে নিয়েও কয়েকশো কোটি টাকার চুরি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত যুবভারতীর ঘটনায় আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি তুলেছিলেন, ‘ভোটের কয়েক মাস আগে ফুটবল আবেগকে অপব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই ফাঁদে পড়ে কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আশাহত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। একজন আন্তর্জাতিক তারকাকে রাজ্যের সম্পত্তি ভেবেছিল তৃণমূল। কিন্তু বেগতিক দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মাঝরাস্তা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে পালিয়েছেন। ভেবেছিল মেসিকে দিয়ে ‘খেলা হবে’ করবেন। উল্টো খেলা হয়ে গেছে।’

মেসির ভারত সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত, যাঁকে এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়েছে, তাঁর এফআইআর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। বলেন, ‘এই শতদ্রুর বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, তাতে ফাঁকফোকর আছে। শুধু তিনিই নন, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসুর গ্রেফতারি চাই। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। মুখ্যমন্ত্রী যে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, তা মানি না।’