শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“ভোটারের জন্ম-মৃত্যু-হার তুলনা করতে হবে। শেষ ১০ বছরে জন্মগ্রহণের তুলনায় আড়াই শতাংশেরও বেশি নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। ভোটার তালিকার গ্রোথ আর বার্থ রেটের গ্রোথ – দুটো তুলনা করে দেখা গিয়েছে জন্মের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি ভোটার রয়েছে। এরা কারা? এরা মৃত ভোটার, ফেক ভোটার, বাংলাদেশি মুসলমান, যারা জন্মেছেন চট্টগ্রামে, সিলেটে, রঙপুরে, লালমনির হাটে। মমতা ব্যানার্জীর সৌজন্যে বেড়া টপকে ঢুকে এখানে ভোটার তালিকায় নাম তুলে ফেলেছে। সেই জন্যই জন্মসংখ্যা আর ভোটারের সংখ্যার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে।” এভাবেই বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বছরের পর বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে জয়ী তৃণমূল, এমনই অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এসআইআর করতে হবে, দলনেতার হওয়া উচিত আর হবেও। এটা নতুন কিছু নয়। শেষ জনগণনা ২০১১-তে হয়েছিল। ভোটারের জন্ম-মৃত্যু-হার তুলনা করতে হবে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “চব্বিশের নির্বাচনে ওরা যা করেছে সেটাও দেখাব। চার ঘন্টা ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিল। সকালে ৮টা থেকে ১০টা ও বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমার কাছে পুরো তথ্য আছে। এক্সপোজ করব। ৮০,৫০০ বুথের মধ্যে ৩৫ হাজার বুথে রিগিং হয়েছিল।” তাঁর কথায়, “এটা আমি ধরিনি। টেলিকম বিভাগ থেকে যাকে বসানো হয়েছিল তিনি ধরেছেন। আইপ্যাক-এর মনোনীত ভাড়া করা এজেন্সি শোকজের উত্তর দিচ্ছে না। সিঙ্গল বেঞ্চে গিয়েছিল হেরেছে। ডিভিশন বেঞ্চে মামলা ঝুলে আছে। তবে এবারে দু’নম্বরি করতে দেব না।”
তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই বিজেপির অভিযোগ, একাধিক বিধায়কদের দিয়ে তালিকা বানিয়ে তিনি চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে তা তৃণমূলেরই শীর্ষ নেতাদের কাছে গেছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবিই করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘প্রমাণ’ হিসেবে দেখিয়েছেন একটি ছবি। ছেলের গ্রেফতারির পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জীবনকৃষ্ণের বাবা বিশ্বনাথ সাহা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিধায়ক হওয়ার পর জীবন বেআইনিভাবে প্রচুর সম্পত্তি করেছে। শুভেন্দু এই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে বলেন, জীবনকৃষ্ণ একা নন, তৃণমূলের আরও অনেক নেতা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।
শুভেন্দু অধিকারীর খোঁচা, ”জীবনকৃষ্ণ আসল নয়।’ তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, সে টাকা তুলেছে। কিছুটা নিজের কাছে রেখে বাকিটা ভাগাভাগি করেছে। এই প্রেক্ষিতেই একটি ছবি দেখিয়েছেন তিনি। তাতে দেখা যাচ্ছে জীবনকৃষ্ণর সঙ্গে রয়েছেন সুব্রত বক্সী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! (যদিও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি সকালের শিরোনাম)। শুভেন্দু বলেন, ”ছবি কথা বলে। আর এটা পুরনো ছবি নয়, ১২ অগাস্টের। সমঝদারো কো ইশারা কাফি হ্যায়।” তাঁর সাফ কথা, ছবিতে যাদের দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতির পুরো টাকা এদের কাছেই গেছে। এই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুই এই অভিযোগ করেছেন বলে দাবি শুভেন্দুর।

সম্প্রতি সাংগঠনিক বৈঠক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু বলেন, ওই বৈঠকে আদতে কী নিয়ে কথা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। দল নিয়ে কথা না হয়ে আসলে দুর্নীতির টাকা লেনদেন নিয়ে কথা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। জীবনকৃষ্ণর কাছে যে টাকা ছিল তার হিসেব-নিকেশ হচ্ছিল বলেও মনে করেন বিরোধী দলনেতা।