সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দুর্গাপুজো এখন আর কেবলমাত্র বাঙালির উৎসব নয়, UNESCO-র স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই গর্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে নিউটাউনে তৈরি করতে চলেছে ‘দুর্গা অঙ্গন’ (Durga Angan)—একটি স্থায়ী মন্দির-সদৃশ কমপ্লেক্স, দেবী দুর্গাকে উৎসর্গিত।
প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২৬২ কোটি টাকা, এবং ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত হয়েছে নিউটাউনের ইকোপার্কের বিপরীতে, ওয়েস্টিন হোটেলের পাশে। কলকাতার বিমানবন্দর, মেট্রো স্টেশন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির কাছাকাছি হওয়ায় এই জায়গাকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা ও কাঠামো
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিডকো (WBHIDCO)-কে। একটি বিশেষ এজেন্সি নিয়োগ করা হবে যারা মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এটি হবে বাংলার প্রথম স্থায়ী দুর্গা মন্দির-কমপ্লেক্স, অনেকটা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ধাঁচে। সারা বছর পর্যটকরা এখানে এসে শুধু পূজা নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন।
একজন সিনিয়র অফিসার বলেছেন – “এটি হবে বাংলার একমাত্র দুর্গা মন্দির কমপ্লেক্স। সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পুজোর সময় ছাড়াও সারা বছর ধরে এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে বাস্তবে
২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী প্রথম ঘোষণা করেন এই পরিকল্পনার কথা। এরপর রাজ্য মন্ত্রিসভা প্রস্তাব অনুমোদন করে। পর্যটন দফতর ও হিডকোকে উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত নিউটাউনকেই নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, পর্যটন ও অর্থ দফতর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে যারা মন্দির কমপ্লেক্সের নির্মাণ ও পরিচালনা দেখবে।
UNESCO স্বীকৃতির প্রভাব
২০২১ সালে UNESCO পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোকে “Intangible Cultural Heritage” ট্যাগ দেয়। এই স্বীকৃতি বিশ্ব দরবারে বাংলাকে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। সেই গর্বকেই স্থায়ী রূপ দিতে ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন – “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন তাই করেন। UNESCO আমাদের দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সম্মানকে ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী ‘দুর্গা অঙ্গন’ গড়ার প্রস্তাব দেন। আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হল।”
পর্যটনের সম্ভাবনা
নিউটাউন ইতিমধ্যেই কলকাতার অন্যতম আধুনিক হাব। ইকোপার্ক, সিটি সেন্টার, মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের মতো জায়গার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘দুর্গা অঙ্গন’।
এটি কেবল বাঙালির পূজা সংস্কৃতির প্রতীক হবে না, বরং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে। সরকারের আশা, প্রতিবছর লক্ষাধিক পর্যটক এখানে ভিড় জমাবেন।

West Bengal government Durga Angan প্রকল্প শুধু একটি মন্দির নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রচেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ নিউটাউনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
‘দুর্গা অঙ্গন’ বাঙালির গর্ব, সংস্কৃতির শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠবে। আগামী দিনে এটি বাংলার অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র হবে বলেই আশা করা যায়।