মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ফ্লোরিডায় এক ডিনার সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি সরাসরি ভারতকে পারমাণবিক হামলার হুমকি দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, “আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা ধ্বংসের মুখে, তবে আমরাও অর্ধেক বিশ্বকে ধ্বংস করে দেব।”
এটি প্রথমবার যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের তরফে ভারতকে এভাবে প্রকাশ্যে পারমাণবিক হুমকি দেওয়া হল।
পটভূমি – অপারেশন সিঁদুর ও সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি
গত এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং এর পরই সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি কার্যত স্থগিত করে দেয়। এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র জলসঙ্কট তৈরি হয়েছে।
আসিম মুনির এদিন ভারতীয় বাঁধ নির্মাণ নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন – “ভারত বাঁধ তৈরি করুক, আমরা ১০টি মিসাইল ছুঁড়ে সেগুলি গুঁড়িয়ে দেব। সিন্ধু নদ ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়, আর আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রেরও কোনও অভাব নেই।”
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিবসেনা (UBT) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, “এটি একটি ব্যর্থ দেশের ব্যর্থ সেনাপ্রধানের কাপুরুষোচিত হুমকি। এমন পারমাণবিক অস্ত্র এখন একজন উন্মাদের নিয়ন্ত্রণে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য কি গ্রহণযোগ্য?”
বিজেপি নেতা গৌরব বল্লভ মন্তব্য করেন, “এটি নতুন ভারত। এখানে বুলেটের জবাব শেল দিয়ে দেওয়া হয়। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নিয়েছি। প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের নৌ ও বিমান বাহিনী দুই দিনের মধ্যেই ধ্বংস করে দিতে পারি।”

আসিম মুনিরের এই হুমকি কেবল ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
ভারতের কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই মন্তব্য পাকিস্তানের অস্থির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফল। সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং সীমান্তে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র চাপে রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও চরমে। ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কূটনৈতিক পথে সমাধানই একমাত্র উপায়, নইলে এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার উপর পড়তে পারে।