ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া গ্রামের সৌভিক দে মুখে বলতে পারেনা কথা, হারিয়েছে শ্রবণ শক্তিও, দেখতে পান না একটি চোখে, অন্য একটি চোখ দিয়ে কোনরকমে অল্প দেখেন। স্বপ্ন বড় চিত্রশিল্পী হওয়ার , মাত্র ১০ মিনিটে আঁকতে পারেন সমস্ত জিনিসের হুবহু কপি , দেখে বোঝার উপায় নেই আসল কি নকল।কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে,বিরাট কোহলি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , ঘরের দেওয়ালে টাঙানো নানান ব্যক্তিত্বের হুবহু ছবি , সেসব ছবি নিজের হাতেই এঁকেছেন সৌভিক দে ।
চার বছর বছর বয়স থেকেই হারিয়েছে কথা বলার শক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তিও সবকিছুকে হার মানিয়েও একটাই স্বপ্ন বড় চিত্রশিল্পী হওয়ার,
মাত্র ১০টা মিনিট। এই তুমুল ডিজিটাল যুগেও ছবি তুলে প্রিন্ট দিতে দিতে এর চেয়েও যেন বেশি সময় লেগে যায়। কিন্তু বছর ২৫ এর সৌভিক দে ১০মিনিটেই আপনার হুবহু ছবি এঁকে দিতে পারবেন। সেই হাতের আঁকা ছবিতে চুল থেকে চোখ, টোল পড়া মুখ-সবই যেন অবিকল-একদম স্পষ্ট।
তবে রঙিন হলে অবশ্য সময় আরেকটু বেশি যায়। ব্যক্তিগত জীবনে বাবা-মা দাদা বৌদি ,ভাইকে নিয়ে সুখের সংসার সৌভিকের। তাদেরকে নিয়ে থাকেন ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া এলাকায় নীজের বাড়িতে, সৌভিক দে কথা না বলতে পারলেও ইশারাতে পরিবারের লোককে সবকিছুই বোঝাতে পারে এবং বুঝতেও পারে। প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে নিজের জেদ ও স্বপ্নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায় সৌভিক। তার পরিবারের লোক চায় প্রশাসনের সাহায্য পেলে তাদের সৌভিক আরো এগিয়ে যাবে তার স্বপ্নের লক্ষ্যে।

সৌভিক এর বাবা উৎপল দে বলেন চার বছর বয়স থেকেই সে প্রতিবন্ধক, ঝাড়গ্রামের বোবা স্কুলে ভর্তি করি কিন্তু সেখানে রাখার মত পরিস্থিতি হয়ে ওঠে নি। তারপর তাকে গ্রামের বাড়ির সামনেই এক স্কুলে ভর্তি করি , তারপর এখানেই মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে সৌভিক,
৬০ শতাংশ নাম্বার নিয়ে পাস করে, ছোট থেকেই দেখতাম তার ছবি আঁকার প্রতি খুব জেদ ছিল।তাই তাকে ছবি আঁকার সমস্ত রকম জিনিস কিনে দিতাম, এখানে থেকে কোনরকম কোন সাহায্য পাওয়া যায় না। প্রশাসন থেকেই যদি একটু নজর দেয় তাহলে আমাদের ছেলে সৌভিক ছবি আঁকা নিয়ে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে!
এই বিষয়ে সৌভিকের মা সুপ্রিয়া দেবী জানান আমি চাই ও ছবি আঁকা নিয়েই এগিয়ে যাক, সৌভিকের পরিবার থেকে এলাকাবাসী সবাই চায় সৌভিকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক প্রশাসন , তাহলে সে তার স্বপ্নের দৌরগড়ায় খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে।