সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কেলগ কলেজের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ তারিখ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকাকালীন সময়ের মধ্যে যেকোনো জরুরী পরিস্থিতিতে সরকার প্রশাসন এবং দলীয়ভাবে তৃণমূলের কাজকর্ম দেখার জন্য দায়িত্ব বন্টন করে দিয়ে গেলেন মমতা।
আজ নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩৬৫ দিনই আমি রাজ্যের প্রয়োজনে থাকি। কিন্তু কখনও কখনও রাজ্যের স্বার্থেই বাইরে যেতে হয়। সেজন্যই যাচ্ছি। আর এসময় যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সেজন্যই এই কমিটি গঠন করে দিয়ে গেলাম। তবে মনে রাখবেন, ওখানে থেকেও আমি নিয়মিত সবকিছুর খোঁজ খবর নেব। দরকারে টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবেন।” নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে সেখান থেকেই জানিয়ে দেন, রাজ্যের প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে দিচ্ছেন। আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন বিবেক কুমার, প্রভাত মিশ্র, নন্দিনী চক্রবর্তী, পুলিশকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজীব কুমার ও মনোজ ভর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখানকার অফিসারদের সঙ্গে সবসময়েই যোগাযোগ রাখি। আমার সঙ্গে চিফ সেক্রেটারি যাচ্ছেন, আমাদের ফোন সবসময়ই খোলা থাকবে। যে কোনও সময়েই যোগাযোগ করা যাবে। তবে আমি কয়েকজন অফিসারকে নিয়ে একটা স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি। তাঁরাই আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন, যদি কোনও প্রয়োজন হয়। তাঁরা প্রত্যেকদিন মনিটারিং করবে। জেলা-ব্লকগুলোকে দেখে রাখবে।”
একইভাবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম- এই পাঁচজন মন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রীদের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও, আমাদের অনুপস্থিতিতে চার-পাঁচ জন মন্ত্রী নবান্নে বসবেন। তাঁরা এই অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করবেন। প্রয়োজন পড়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন, নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে।”

অন্যদিকে দলীয়ভাবে তৃণমূলের কোনো প্রয়োজন পড়লে তা দেখার জন্য দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির মধ্যে।