সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেবেন না তিনি। রাজ্যের ৪ অফিসার সহ অভিযুক্ত মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এমনটাই বলেছিলেন মমতা। তবে বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। আগামী ২১ অগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।
রাজ্য সরকারের চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার প্রশ্নে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের পারদ দিল্লি পৌঁছে গেছে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে দেখা করতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার মধ্যেই এদিন নয়াদিল্লির অশোক রোডে নির্বাচন সদনে পৌঁছে যান। তার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর বেরিয়ে আসেন মুখ্য সচিব।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৭ দিনের মধ্যে কমিশনের নির্দেশ পালন করে রিপোর্ট দিতে হবে। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারের নাম ঢোকানের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগে যে ৪ জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল কমিশন, তা পালন করতে হবে। শুধু তা নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করতে হবে।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিনের বৈঠকে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ বুঝিয়ে দেন যে, চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার বিষয়টি তাঁর একার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না। মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন তার উপর নির্ভর করছে। বড়জোর তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়মটা জানাতে পারেন। সুতরাং কমিশন ৭ দিনের মধ্যে যেভাবে নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে বলেছে, সে ব্যাপারে তাই এদিন স্পষ্ট করে কোনও জবাব দিয়ে আসেননি মনোজ পন্থ। কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তা জানাবেন বলেই কমিশনকে ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের দুই ইআরও, দুই এইআরও ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ভোটার লিস্টে ভুয়ো নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, অফিসাররা তাঁদের আইডি শেয়ার করেছেন অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করা ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের সঙ্গে। তাঁদের সাসপেন্ড করার ও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সুপারিশ করে কমিশন। সেই ব্যবস্থা না হওয়ায় বুধবার পন্থকে তলব করা হয়েছিল দিল্লিতে।
বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, ওই কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মণ্ডল, আর ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং ওই কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে ওঠে অভিযোগ। এছাড়া, সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত সোমবার রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয়, এইআরও সুদীপ্ত দাস ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কারও বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি, কাউকে সাসপেন্ডও করা হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয় যে, এই সব অফিসারদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি চাপ থাকে, তাই কর্মীদের সঙ্গে আইডি শেয়ার করে থাকেন।

সূত্রের খবর, কমিশনের দেওয়া চিঠির নির্দেশ কেন কার্যকর হয়নি, সেই নিয়ে এদিন ফুল বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে। চার অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার এখনও কী কী পদক্ষেপ করেছে তা রিপোর্ট-সহ তুলে ধরতে হয়েছে মুখ্যসচিবকে। বৈঠকে উঠে এসেছে আইনি এক্তিয়ার সংক্রান্ত ইস্যুও।