সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূলের সমস্ত গাড়িতে তল্লাশি হলে কেন বিজেপি নেতাদের গাড়ি তল্লাশি হবে না? এভাবেই কি নির্বাচন চলবে? কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে টাকা আসে। সেন্ট্রাল ফোর্সের গাড়িতে কি কি আসে সব আমি জানি।’ বাংলা নববর্ষের দিনে ইসলামপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে দাবি করা হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সমস্ত নেতা মন্ত্রীদের গাড়ি পরীক্ষা করতে হবে তারা ভিন রাজ্য থেকে টাকা পাচার করছেন কিনা বাংলায়।
সেই বিতর্কের আবহে বুধবার মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি বললাম, চেক করো, আমি চাই চেক করো। যদি সাহস থাকে প্রত্যেকদিন আমার গাড়িতে তল্লাশি চালাও। আজ যেভাবে দমদম বিমানবন্দরে তল্লাশিতে এসেছিল, তাতে আমি খুশি। বিজেপির মতো আমি চোর, ডাকাত নই। আমি রাজনীতি করি। সরকারের থেকে এক পয়সা স্যালারিও নিই না।’
বুধবার, ইসলামপুরে দিনের প্রথম জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এসআইআর-র বদলা নেবেন, ভোট কাটার বদলা নেবেন?’ জনতা উচ্চস্বরে সম্মতি জানায়। চা বাগান শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মমতা জানান, প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবি আইন আনবেন তিনি। পাট্টা থেকে মজুরি বৃদ্ধি-সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মমতা। অন্যদিকে, বুধবার শিলিগুড়ি বিধানসভার প্রার্থী গৌতম দেবের সমর্থনে মিছিল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শিলিগুড়ি জংশন থেকে হাশমি চক পর্যন্ত মিছিল করছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান হাজার হাজার কর্মী সমর্থকরা। মমতার অভিযোগ, ‘বিজেপি এখন টাকা দিচ্ছে। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে দেশের অর্থমন্ত্রী এসে টাকা দিচ্ছে। বেনামি কার্ড দিচ্ছে। পরে সব বাতিল হয়ে যাবে। সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দখল হয়ে যাবে। টাকার হুন্ডি নিয়ে নেমেছে। ঝড়জলে দেখে না। চা বাগান বন্ধ হলে, আমরা দেড় হাজার টাকা করে দিই শ্রমিকদের। বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ দিই। আমরা শ্রমিকদের সব কিছু দেই। ওরা কিছু দেয় না। বিজেপি সব শক্তি নিয়ে এসেছে। বাংলাকে জ্বালাতে এসেছে। নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূলের সবাইকে গ্রেপ্তার করো। তৃণমূলের একজন গ্রেপ্তার হলে, আপনাদেরও হাজার গ্রেপ্তার হবে। সব অফিসারকে ধমকাচ্ছে।’
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘চেয়ার মিথ্যে কথা বলে না। আমি মানুষকে বিভ্রান্ত করি না। চেয়ারের সম্মান রাখুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। ভোটের সময় অর্থমন্ত্রী কার্ড বিলি করছেন। আমি নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ করতে বলব। যাঁরা ক্ষমতায় অপব্যবহার করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন। আজকে কেন কার্ড দিচ্ছেন? আরও আগে দিলেন না কেন? ভোটের পর বুলডোজার নিয়ে আসবে। আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেব। যাঁদের নাম বাদ দিয়েছে, তাঁদের নাম তুলবো। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে কেন্দ্র করে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, ‘মহিলা বিল আলাদা। ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছে। ডিলিমিটেশন বিল আলাদা। তুমি মহিলাদের এত অসম্মান করছ কী করে? তুমি দেশটাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছ। বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছ। বিল করার আগেই, বাংলা একমাত্র রাজ্য। যার ৩৩ নয় ৩৬ শতাংশ জেতা প্রার্থী (নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধি) আছে লোকভায়, রাজ্যসভায়। কেবলমাত্র একমাত্র দল (তৃণমূল), একমাত্র রাজ্য (বাংলা)। মহিলা বিলের সঙ্গে ইচ্ছে করে ডিলিমিটেশন বিল জুড়েছে। আগামী দিনে তুমি ভারতবর্ষে থাকবে না। তুমি জিতবে না।’