কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
প্রথম বারের জন্য রথযাত্রা ঘিরে উৎসবের মেজাজ সৈকতনগরী দিঘায়। আর সেই উপলক্ষে দিঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন বুধবার সড়ক পথে দিঘায় পৌঁছোবেন।
সেই মতো বুধবার দুপুরে সাড়ে ১২টা নাগাদ সড়ক পথে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরে ঢুকতেই মোড়ে-মোড়ে দলের প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে জমায়েত অনুগামীদের।
কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে ফুলের তোড়া নিয়েও দাঁড়িয়েছিলেন। কোলাঘাটের হলদিয়া বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি সুজিত রায়, প্রাক্তন সভাপতি অসিত ব্যানার্জি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তমলুকের বিধায়ক সৌমেনকুমার মহাপাত্র ও পশ্চিমবঙ্গে ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের। তবে মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে না নামলেও গাড়ির গতি কমিয়ে তাঁদের হাতজোড় করে নমস্কার করে বেরিয়ে গিয়েছেন। এরপর তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সড়কের উপর অপেক্ষায় থাকা সুতাহাটা ব্লকের দলীয় নেতৃত্ব সহ জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গেও একইভাবে গাড়ি আস্তে করে দেখা করে বেরিয়ে যান তিনি। নন্দকুমার দিঘা ১১৬ বি জাতীয় সড়ক ধরে মারিশদা থানা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এদিন সারপ্রাইজ ভিজিট করেন মুখ্যমন্ত্রী। কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। কাঁথি ৩ পঞ্চায়েত সমিতির সামনে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সোজা বেরিয়ে রামনগরে পৌঁছোন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা দলের নেতৃত্ব তথা বিধায়ক অখিল গিরি, কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি সহ অন্যান্যদের সাথে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে নেমে বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে চলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করেন পড়ুয়াদের সাথে এবং স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের সাথে। সেখান থেকেই তিনি গাড়িতে করে আবার দিঘার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দিঘা গেট থেকে ওল্ড দিঘার সৈকতাবাস পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দু’ধারে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মুখ্যমন্ত্রী বুধবার দিঘা গেট দিয়ে ঢুকতেই শুরু হয় বৃষ্টি, তারই মাঝে চলে শঙ্খধ্বনি। ঘড়ির কাঁটা যখন সন্ধে ৬টার ঘরে তখন তিনি ওল্ড দিঘায় ঢোকেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে সৈকতনগরীতে প্রশাসনিক ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। রথ শুক্রবার হলেও আগেভাগেই দিঘায় পৌঁছেছেন মমতা। সূত্রের খবর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবেন তিনি। ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে এলাকা। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এখন থেকেই ভিড় জনসাধারণের। রথের দিন কোনও ঝামেলা না বাঁধে তার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার রথযাত্রা। রথের দিন সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে রথযাত্রার সূচনা করবেন মমতা। সমুদ্র নগরীতে জগন্নাথ মন্দির তৈরির পর এই প্রথম সেখানে রথযাত্রার আয়োজন হয়েছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোটা সৈকত শহর আলোর মালায় সেজে উঠেছে। দিঘা জুড়ে এখন উৎসবের মেজাজ।

দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দির থেকে পুরনো মন্দির, প্রায় এক কিলোমিটার পথ জুড়ে চলবে রথযাত্রা। অনুমান করা হচ্ছে, এ বছর প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ ভক্ত রথযাত্রার সময় উপস্থিত হবেন দিঘায়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে প্রশাসন, পুলিশ, দমকল ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, তাঁর নির্দেশমতো কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা চাক্ষুষ করতে চান তিনি। সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখতেই বুধবার দিঘায় গিয়েছেন তিনি। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাননি মমতা।