সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“এখন জয় কালী বলছে, ছাব্বিশে জয় বাংলা বলাবে। জয় শ্রীরাম ছেড়ে এখন বিজেপিকে জয় দুর্গা বলতে হচ্ছে, এটাই আমাদের জয়।” একুশে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে এভাবেই কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলার সভা থেকে অভিষেক বলেন, “আগে বিজেপি বলত ‘জয় শ্রী রাম’। এখন বলছে ‘জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী’। লিখে রাখুন, ২৬ সালের পর ওদের দিয়েই ‘জয় বাংলা’ বলাব। এটা বাংলার মানুষের জয়। আপনারা দুর্গাপুজো বন্ধ করতে চেয়েছিলেন ইনকাম ট্যাক্স চাপিয়ে, মানুষ বুঝে নিয়েছে কী করতে হয়।” মঞ্চে ওঠার আগে শহিদ বেদীতে মাল্যদান করে প্রণাম জানান অভিষেক। তারপরই বক্তব্য রাখতে উঠে একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধতে শুরু করেন। কেন্দ্রের আর্থিক নীতি থেকে রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা-সবকিছুরই কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
অভিষেকের বক্তৃতা জুড়ে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ, এনআরসি ইস্যু, এবং রাজনৈতিক আক্রমণের নানা দিক। পেগাসাস গোয়েন্দাগিরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলায় আড়ি পেতেও বিজেপি ফল পায়নি। আমরা যত বাংলায় কথা বলব, ওদের ততই অসুবিধা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘কালীনাম’ উচ্চারণ প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিষেক পাল্টা কটাক্ষ করেন “এখন জয় কালী বলছে, ছাব্বিশে জয় বাংলা বলাবে। জয় শ্রীরাম ছেড়ে এখন বিজেপিকে জয় দুর্গা বলতে হচ্ছে, এটাই আমাদের জয়।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মের নামে রাজনীতি আমাদের আদর্শ নয়। আমরা কাজের রাজনীতি করি। বিজেপির মতো প্রতিশোধের নয়। কিন্তু বাংলার অপমান সহ্য করব না। এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না। এবার খেলা নয়, এবার গাছের গোড়া কেটে ফেলা হবে পদ্মফুল উপড়ে ফেলতে হবে।”
অভিষেক অভিযোগ তোলেন, “ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করেও বিজেপি বাংলা দখল করতে পারেনি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি বলেন। এসব আর চলবে না। এবার সংসদে নিয়ম করে বাংলায় কথা বলব। দেখি কার কত গায়ে লাগে।”
তিনি ইডি-সিবিআইয়ের ভূমিকাকেও তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “একদিকে বিরোধীদের জেলে পুরছে, আর অন্যদিকে ভুয়ো ভোটার ঢোকাচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। গলা কাটলেও ‘জয় বাংলা’ বলব।”