শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলা নববর্ষের দিনে বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্পূর্ণ বাংলায় লেখা এই চিঠিতে একদিকে যেমন রাজ্যের মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন তিনি, ঠিক তেমনই গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের শাসনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। মা কালীর কাছে বঙ্গবাসীর মঙ্গল প্রার্থনা করে চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী অপশাসন, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির শিকার।’
তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকারের তৈরি করা ভয়ের পরিবেশের কারণে বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যুবসমাজ কর্মসংস্থানহীন হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। মোদী স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গের এই বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক গরিবের মাথার উপরে ছাদ ও সবার পাতে খাবার নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যের মহিলারা নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবেন এবং যুবসমাজের জন্য ঘরের কাছেই কাজের সুযোগ তৈরি হবে। মোদীর কথায়, “রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর পশ্চিমবঙ্গ দেশের সঙ্গে উন্নয়নের পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোবে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির ওপর ভরসা রেখে এক ঐতিহাসিক জয় উপহার দেবেন। চিঠির শেষে আরও একবার রাজ্যের জনগণকে নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেক, ’পয়লা বৈশাখের এই শুভ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সাহিত্যিক এবং বীর বিপ্লবীদের গৌরবে ভরা এই বাংলায় নতুন বছরে আসুক উন্নয়ন, সুশাসন ও সকলের কল্যাণের এক নতুন অধ্যায়। রাজ্যের সকল মানুষের উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করছি।’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন লেখেন, ‘পয়লা বৈশাখের এই পুণ্য লগ্নে আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা! বাংলা নববর্ষের এই শুভ মুহূর্ত আমাদের মনে এক নবীন আশা এবং সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার সঞ্চার করে। বাংলার সুমহান ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অহংকারের শিকড়ে প্রোথিত এই উৎসব আজ আমাদের অনুপ্রাণিত করে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে— এমন এক আগামী, যেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য সুনিশ্চিত হবে সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার আত্মমর্যাদা।’