সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর মামলার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের এক ১৪২ ধারা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল ভোট গ্রহণের দুদিন আগেও যদি বিশেষ ট্রাইবুনাল থেকে নামের জটিলতা নিষ্পত্তি হয় তাহলে ভোট দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বৈধ ভোটাররা।
অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল তারিখের মধ্যে যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি করবে তাঁদের নাম সংযুক্ত করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য যাঁদের আবেদনকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের বৈধ বলে জানাবে।’ জানিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ‘ইনক্লুশন’ এবং ‘এক্সক্লুশন’ দু’ক্ষেত্রেই লাগু হবে এই নির্দেশ, জানাল শীর্ষ আদালত।
এমনকী ২১ এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের নামের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। ২১ এপ্রিল প্রথম দফার জন্য। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে সেটি ২৭ তারিখ নির্ধারণ করল সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ২৪ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেই জানাল শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, অন্য কোনও রাজ্যে না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ কেন লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সিতে ভোটারদের ফেলল নির্বাচন কমিশন? সোমবার এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনকে এই প্রশ্নই করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি।
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই বিষয়ে আবেদন জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি আবেদনে জানান, ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নামে নিষ্পত্তি করবে, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া হোক। যদিও এক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের যুক্তি ছিল, এহেন অনুমতি দিলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদেরও ভোটাধিকার স্থগিত করতে হবে। কিন্তু এরপরেই আবেদন ভেবে দেখবেন বলে জানায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এরপরেই গুরুত্ব বুঝে ১৪২ ধারা অনুযায়ী ‘বিশেষ ক্ষমতা’ প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। যা অবশ্যই স্বস্তির খবর ভোটার তালিকায় ডিলিট হয়ে যাওয়া ভোটারদের জন্য।
শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ তথা রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ‘আজ নির্দেশনামা আপলোড হয়েছে। তা দেখে স্পষ্ট যে, ২১ তারিখ পর্যন্ত যত আপিল নিষ্পত্তি হবে, তা তালিকায় যুক্ত হবে। এবং দ্বিতীয় দফার আগে অর্থাৎ ২৭ তারিখের মধ্যে যতগুলি নাম নিষ্পত্তি হবে, তা যুক্ত হবে। আমরা কৃতজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের কাছে।’

নতুন করে নাম ঢোকানোর কথা বলার পরে বেশ কিছুটা স্বস্তিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা ভোটাররা। এখন তাঁরা অনেকেই আশায় রয়েছেন, নাম নিষ্পত্তি হলে ভোট দিতে পারবেন। ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পরে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন, এবারের ভোট দিতে পারবেন না তাঁরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সমস্যা কাটতে চলেছে। প্রথম দফার নির্বাচনের আগে ২১ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফার আগে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে যারা যারা বৈধ প্রমাণিত হবে, তাঁরা এবার ভোটদানের সুযোগ পাবেন।