শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূল তো ভোট-ডাকাত। কবর থেকে মানুষকে এনে ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে।’ বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে এভাবেই বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ‘বিএলও-দের তুলে নিয়ে গিয়ে পঞ্চায়েত, পার্টি অফিসে ভুল তথ্য আপলোড করানো হচ্ছে। বিএলও-রা আক্রান্ত হচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করার ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল।’
এসআইআর ইস্যুতে বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। মৃত বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটার নিয়ে তৃণমূল–বিজেপি তরজায় নয়া তির ছুড়লেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্য—‘দুয়ারে সরকার, কবরে ভোটার’।
বিরোধীদের অভিযোগ, মৃত ভোটারকে তালিকায় রেখে ‘ম্যানেজমেন্ট’ চলছে। কিন্তু ৯০ শতাংশ ডিজিটাইজেশনের পরে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর তফাৎ ধরা পড়েছে—এই পরিসংখ্যানের জোরেই সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছিলেন শমীক। বলেছিলেন, ‘ঠান্ডা ঘরে না বসে থেকে গ্রাউন্ড জিরোয় আসুন।’

বিজেপির অভিযোগ, এসআইআর মানছে না তৃণমূল, চাপ দেওয়া হচ্ছে বিএলওদের ওপর।অন্যদিকে কমিশনের হিসেব বলছে, এ রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বুথে ফর্ম বিলি ও ডিজিটাইজ পর্ব চলাকালীন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের প্রায় ২,২০৮ টি বুথের থেকে কোনও ফর্ম ফেরত আসেনি। অর্থাৎ এইসব বুথে বিলি করা ও ডিজিটাইজ করা ফর্মের সংখ্যা একই। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১৩ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে দিল্লি।
তবে বাংলায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ‘শমীক বাংলা শব্দের খেলায় ভালই পারদর্শী। কিন্তু ওনার স্লোগানটা ভুল—এটা ‘দুয়ারে সরকার, কবরে ভোটার’ নয়, সঙ্গে যোগ হবে ‘মঙ্গলগ্রহে বিজেপি’! এতদিন বলছিলেন, এসআইআর হলে নাকি সওয়া কোটি ভোটার বাদ যাবে। এখন দেখছেন, নিজেদের কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাই এখন ভরসা ভূতুড়ে ভোটারের গল্প। ভোটের দিন ভোটাররা নাকি কবর থেকে উঠে আসবেন! সে জন্যই বলছি—যাঁরা প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন, ভূতের ভয় থাকলে সঙ্গে ওঝা নিয়ে আসবেন। বিএলওদের কাজ নিয়ে এত অভিযোগ! কিন্তু আপনারা তো বুথে বিএলএ-টু রাখেন। তাঁরা আপত্তি তুললেন না কেন? কমিশনে অভিযোগ করলেন না কেন? অন্তত স্পট থেকে লাইভ করলেন না কেন? কারণ সহজ—লোক নেই, সংগঠন নেই। তাই নাটক করে মৃত ভোটারের গল্প শোনানো হচ্ছে।’