প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
দক্ষিণ কলকাতার বুকে গড়ে উঠছে কালীঘাট স্কাইওয়াক। আর এখন তা উদ্বোধন করা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আগামী ১৪ এপ্রিল কালীঘাট স্কাইওয়াকের উদ্বোধন হবে বলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সমস্ত কাজ দেখে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে কালীঘাট স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী। কারণ দুটি। এক, দিনটি অত্যন্ত ভাল। দুই, বাংলার মানুষকে এই স্কাইওয়াক উপহার দিতে চান নববর্ষে। নববর্ষের দিন বহু মানুষ এই পীঠস্থানে পুজো দিতে আসেন। হালখাতা হয়। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে কালীঘাট স্কাইওয়াকের উদ্বোধনের দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল কালীঘাট মন্দিরের স্কাইওয়াকের উদ্বোধন হবে। কালীঘাট স্কাইওয়াক উদ্বোধন হয়ে গেলে পুণ্যার্থীরা সহজেই মন্দিরের দ্বারে পৌঁছে যেতে পারবেন। কোনও পান্ডার ঝামেলায় পড়তে হবে না। আবার নীচে থাকছে দোকান। সেখানে নেমে এসে নানা সামগ্রী কিনতে পারবেন। তবে স্কাইওয়াকে চড়ে মন্দিরে পৌঁছনোর পথেই মিলবে পুজোর সামগ্রী। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল কালীঘাট স্কাইওয়াক নির্মাণের কাজ। তবে কালীঘাটের মতো জনবহুল এবং ঘিঞ্জি এলাকায় এই কাজ করা মোটেই সহজ ছিল না। মাটির নীচে থাকা ব্রিটিশ আমলের পাইপলাইন থেকে শুরু করে নিকাশির পাইপ অক্ষত রেখে সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা কঠিনই ছিল। নতুন সাজে এখন সেজে উঠেছে কালীঘাট মন্দির। স্কাইওয়াকের কাজও শেষ হয়ে এখন উদ্বোধনের পালা।

দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণি স্কাইওয়াকের উদ্বোধনের দিনই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় কালীঘাটে স্কাইওয়াক (Kalighat Skywalk) তৈরির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সেটা ২০১৮ সালের নভেম্বর। দক্ষিণেশ্বরের আদলে কালীঘাটের স্কাইওয়াক তৈরির জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। এসপি মুখার্জি রোড থেকে কালী টেম্পল রোড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চারশো মিটার লম্বা একটি স্কাইওয়াক তৈরির বরাতও দেওয়া হয়। ঠিক হয় স্কাইওয়াক ওঠার জন্য থাকবে তিনজোড়া চলমান সিঁড়িও।
শুরুর দিকে দোকানপাট সরানো, হকারদের আপত্তি এসবের জন্য কাজ শুরু হতে ২০২১ সালের শেষদিক পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় কাজ।