সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৩ সাল থেকে কসবা গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রর বিরুদ্ধে থানায় ১২টি ধারায় মামলা ছিল। হুমকি, মারপিট, শ্লীলতাহানি সহ আরও বহু কুকীর্তি ঘটিয়েছিল মনোজিৎ। যার একটিরও শাস্তি পায়নি অভিযুক্ত। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে ছিল কসবা কাণ্ডের শুনানি। এদিন শুনানি চলাকালীন মূল অভিযুক্ত ও অন্য দুই অভুযুক্তের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানান তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
জানা যাচ্ছে, গেট প্যাটার্ন পরীক্ষা একটি বিশেষ পরীক্ষা মাধ্যম, যার দ্বারা অভিযুক্তের হাঁটা চলার সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের সাদৃশ্য মেলান হয়। তদন্তের অগ্রগতিতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর বলে দাবি তদন্তকারীদের। কসবা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ঘটনার পরেরদিনই একাধিক সিসিটিভি উদ্ধার করেছে পুলিস। যেখানে একাধিক জায়গায় মূল অভিযুক্তকে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া ব্যক্তিই যে মূল অভিযুক্ত তা’ই পরীক্ষা করে দেখা হবে গেট প্যাটার্ন পরীক্ষায়। আজ বুধবার, প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে মনোজিৎ ও তার দুই সঙ্গী প্রমিত মুখোপাধ্যায় জেব আহমেদের গেট প্যাটার্ন পরীক্ষা করবে পুলিস। অভিযুক্ত তিনজনের হাঁটাচলার ছবি তুলে মিল করান হবে ফুটেজের সঙ্গে। যা এই মামলায় ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে আদালতে পেশ করবে পুলিশ।
চোদ্দ দিনের জেল হেফাজতের শেষে কসবা গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীদের তোলা হল আদালতে।পুলিশের তরফ মঙ্গলবার ফের চোদ্দ দিনের জন্য জেল হেফাজতে চাওয়া হয়। ৫ অগস্ট অবধি জেল হেফাজতে অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা।
অভিযুক্তের আইনজীবী রাজা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “জামিন চাইছি না। তবে আমার মক্কেলকে বলা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে যেন তিনি বলেন যে অপরাধ করেছেন। জেলে থাকার মতো পর্যাপ্ত আলো,বাতাস, খাবার পাচ্ছি না। মশারি দরকার। পেনসিল,কাগজ দরকার।”
এই ঘটনায় অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেল ২৩৩ টাকা দৈনিক পাওয়া এক কর্মী।” বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ফুটেজে দেখা যাচ্ছে বাইরে পাহারা দিচ্ছে রক্ষী। ভিতরে নির্যাতন চলছে। একজন ভিডিয়ো করছে, ব্ল্যাক মেইল করা হচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষীর দায়িত্ব ছিল নিরাপত্তা দেওয়ার। উনি গার্ড দিলেন ভিতরে অপরাধ সংগঠিত যাতে হয়। আমরা নির্যাতিতার সিডিআর তুলেছি। টাওয়ার লোকেশন পেয়েছি। সকলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।তদন্তকারী সংস্থা কোনও ভাবেই প্রভাবিত হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত এখন খাতা,বই চাইছেন তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে এটা দেখিয়ে পরে বলা হবে নাতো উনি খুব মেধাবী ছাত্র। জেলে থাকায় পড়াশোনা আটকে যাচ্ছে। ওঁর পুরনো রেকর্ড অন্য কথা বলছে। বারোটি মামলা রয়েছে অভিযুক্তের নামে। তার মধ্যে একটি শ্লীলতাহানির মামলা। ঠিক সময়ে সাজা হলে এমন ঘটনা হত না।”
এরপরই বিচারকের প্রশ্ন, “২০২৩ থেকে হলে রাজ্য কী করছিল?বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের উত্তর, “রাজ্য যা করার করেছে।
বস্তুত, কসবার একটি আইন কলেজে ইউনিয়ন রুমের ভিতরে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এক ছাত্রীকে গার্ডরুমের ভিতরে গণধর্ষণেরই অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয় অভিযুক্তরা। আজ আবারও ছিল মামলার শুনানি।