সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার রাজনীতি ফের উত্তপ্ত। রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে দিলেন বিস্ফোরক বার্তা। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি বাংলা বিরোধী। বাংলার অধিকার রক্ষার জন্য আমার কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
এই অধিবেশন ডাকা হয়েছিল মূলত ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় কথা বলার অপরাধে হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু সেই অধিবেশনেই বিজেপি বিধায়করা হাতে প্ল্যাকার্ড, বাঁশি, ঝুমঝুমি নিয়ে তীব্র হট্টগোল শুরু করেন। এর প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা সাফ জানিয়ে দিলেন— “আগামী দিনে বাংলার বিধানসভায় বিজেপি শূন্য থেকে মহাশূন্যে পরিণত হবে।”
BJP vs TMC in Bengal Assembly 2025
বিধানসভায় BJP বিধায়কদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “এরা বাংলা বিরোধী। বাংলা ভাষা নিয়ে কোনও আলোচনা চায় না। এরা বাংলার মানুষকে হেনস্থা করে। যারা বাংলার বিরোধী, তারা আসলে দেশ বিরোধী।”
Assembly session জুড়ে বিজেপি বিধায়করা sloganeering এবং হট্টগোল চালিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একাধিক বার্তার মাধ্যমে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন—
“আমার কণ্ঠ রোধ করতে পারবেন না। এটা বাংলার ইস্যু, বাঙালির ইস্যু, আমি বলবই। বাংলায় কারও কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।”
Mamata Banerjee’s Attack on BJP
মুখ্যমন্ত্রী এদিন একাধিক তোপ দাগেন বিজেপি নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সেদিন বিজেপি-র লেজুড়রা ইংরেজদের সঙ্গে চুক্তি করে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। আজও ওরা একইভাবে চক্রান্ত করছে।”
এছাড়াও মমতা অভিযোগ তোলেন যে BJP communal politics, corruption এবং double standard এর মাধ্যমে দেশ চালাতে চাইছে।
Citizenship Amendment Act (CAA) প্রসঙ্গে মন্তব্য
অধিবেশনে CAA প্রসঙ্গও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন: “২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা থেকে যাবেন, তাঁদের নাগরিকত্ব, রেশন, সাংবিধানিক অধিকার দেবেন তো? আমরা বাংলায় কোনও নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বার্তা দেন।
Mamata Banerjee vs Narendra Modi
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকেও নাম না করে কড়া আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,
“আজ রাশিয়া, চিন, আমেরিকা, ইজ়রায়েলের পায়ে পড়েছেন। দেশটার সম্মান নষ্ট করছেন। এরা কী দেশ চালাবে! বিভেদের রাজনীতি করে।”
একইসঙ্গে তিনি BJP MPs এবং MLAs-দের কটাক্ষ করে বলেন, “আপনারা চোর, চোর বলতে বলতে মোদি চোর বলে ফেলছেন। এটা বলবেন না। শেম অন ইউ। নিজের প্রধানমন্ত্রীকেই চোর বলছেন।”

বাংলা বনাম বিজেপি : মূল লড়াই
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি বারবার বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা এবং অধিকারকে অপমান করছে। তাই তিনি সরাসরি বার্তা দেন— “বাংলা বিরোধী বিজেপি হঠাও, দেশ বাঁচাও। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে। বিজেপি-কে শূন্য থেকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দেবে।”
এছাড়া মমতা এদিন রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, আম্বেদকর প্রমুখের উল্লেখ করে বাংলার নবজাগরণের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করান।
রাজনৈতিক বার্তা : শেষের সতর্কতা
অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—
“বাংলায় পরিবর্তন চাই। বিজেপি-কে বিদায় দিতে হবে। বাংলার মানুষ অত্যাচারের জবাব দেবে। আগামী দিনে জনগণের ধাক্কায় বিজেপি বিধানসভায় আর আসতে পারবে না।”
এই বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে Assembly floor-এ হট্টগোল হলেও, তৃণমূল এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলার মানুষের কাছে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে যেমন শোনা গেছে বাংলার সাংস্কৃতিক গর্বের কথা, তেমনই বিজেপির বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও শোনা গেছে।

তাঁর বক্তব্য থেকে একটাই পরিষ্কার—
বাংলা ও বাঙালির অধিকার রক্ষার লড়াই আগামী দিনে আরও জোরদার হবে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার বার্তা—
“আমার কণ্ঠ রোধ করতে পারবেন না। বাংলার কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।”