সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘যাঁরা এই বিপর্যয়ে সব হারিয়েছেন, তাঁদের পাশে সরকার আছে। কেউ চিন্তা করবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাত দিনের মধ্যে চাকরির নিয়োগ ও ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হবে। এটা বিশেষ নিয়োগ।’ উত্তরবঙ্গের মিরিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবারের পাহাড় সফরের তৃতীয় দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের মিরিকে ভারী বর্ষণজনিত বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করেন। তিনি একটি রিলিফ ক্যাম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন, যার মধ্যে শিশুরাও ছিল। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির জায়গা পরিদর্শন করেন এবং আশ্বাস দেন যে সরকার দ্রুত সাহায্য প্রদান করবে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মিরিক পরিদর্শন সেরে সুখিয়াপোখরিতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতির জন্য এলাকার বাসিন্দাদের হাতে তুলে দিলেন ১ লক্ষ টাকা। জানালেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। প্রবল বৃষ্টি এবং ভুটানের জলে সপ্তাহখানেক আগে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকা। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছে রাজ্য। তখনই ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের প্রচেষ্টায় বিপর্যয় কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়। তবে বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এখনও বিভিন্ন এলাকার ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন বহু মানুষ। অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। ধসের জেরে বন্ধ বেশ কয়েকটি রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে গত রবিবার ফের উত্তরবঙ্গ গিয়েছেন মমতা। মঙ্গলবার সকালে মিরিকে যান তিনি। কথা বলেন দুর্গতদের সঙ্গে।
এদিন সুখিয়াপোখরি যান মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। হাতে তুলে দেন বাড়ি মেরামতির ১ লক্ষ টাকা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্যোগে সুখিয়াপোখরিতে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। পাশাপাশি দ্রুত অস্থায়ী ব্রিজ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, আগামিকাল অর্থাৎ বুধে হবে রিভিউ মিটিং। আগামীকাল তিনি দার্জিলিংয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। বৈঠকে আগামী দিনের ত্রাণ বন্টন ও পুনর্গঠন কাজ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ি পৌঁছবেন, সেখান থেকে শুক্রবার কলকাতায় ফিরবেন। কলকাতায় ফিরে একাধিক কালীপুজো উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।
মিরিকে বাড়ি ধসে একই পরিবারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িতে গিয়েই গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন, মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিজনরা। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের তদারকি করেন তিনি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাস্তা থেকে ধস সরানো হয়েছে। ত্রাণ সরবারহের কাজ চলছে।মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। চাকরির কাগজ ইতিমধ্যেই দিয়েছি।’