সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘ইতিহাস সব দেখছে। বাংলা ক্ষমা করবে না, বাংলা ভুলেও যাবে না।’ এভাবেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর এর চাপে বাঁকুড়ায় বুথ লেভেল অফিসারের আত্মহত্যার অভিযোগের ঘটনায় বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার রাজাকাটা এলাকায়। পেশায় প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারাধন মণ্ডল আত্মহত্যা করেছেন বলেই প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোট। সংশ্লিষ্ট নোটে শিক্ষক লিখে গিয়েছেন কাজের অত্যাধিক চাপের কথা। আর এই বিষয় জানাজানি হতেই নতুন করে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। খবর পেয়ে রানিবাঁধ থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন হারাধন। তাঁর কাঁধে পড়েছিল বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার ২০৬ নম্বর বুথে বিএলও-র দায়িত্ব। নিজের বুথের কিছু ভোটারের শুনানিতে ডাক পড়ে। সেই ভোটারদের নথিপত্র জোগাড়ের নাম করে এদিন বেলা দশটা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে বের হন ওই বিএলও। দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
পরে পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ করতে করতে স্কুলে হাজির হন। দেখেন স্কুলের একটি ক্লাসরুমের সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ ঝুলছেন হারাধন। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট বলে পরিবার সূত্রে খবর। সংশ্লিষ্ট নোটে লেখা রয়েছে, ‘আমি আর চাপ নিতে পারছি না। বিদায়।’ একই সঙ্গে ওই নোটে লেখা রয়েছে, ‘এই কাজের জন্য আমিই দায়ী। এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ নেই।’ শেষে লেখা আছে, ‘সব ঠিক করেও আমি ভুল করলাম। ক্ষমা কর আমাকে।’ পরিবারের দাবি হারাধন মণ্ডল এসআইআর-এর কাজের চাপ নিতে না পেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার জেরেই এমন ঘটনা। মৃত বিএলওর ছেলে সোহম মণ্ডল বলেন, ‘বাবা এসআইআর-এর চাপ নিতে পারেনি। তাই সুইসাইড করে নিয়েছে। কী করব? প্রচুর কাজের চাপ। কোনও ট্রেনিং নেই কিছু নেই। আজ বলছে এই কাজ করলে হবে, কাল বলছে ভুল।’
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বিএলও মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লেখেন, ‘ইতিহাস সব দেখছে। বাংলা ক্ষমা করবে না, বাংলা ভুলেও যাবে না।’ এদিনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একযোগে বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিশৃংখল ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসআইআরের অমানবিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আরও এক বিএলও চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার জেরে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক, মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও ভয়ের কারণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যে কাজ ধাপে ধাপে, পরিকল্পিত ভাবে হওয়া উচিত ছিল তা কার্যত ‘বুলডোজার’ চালিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষায় এবং একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অঙ্ক মেলাতে কাজ করে চলেছে নির্বাচন কমিশন। তাই এভাবে নিরীহ মানুষের মৃত্যু বিজেপির কাছে কোল্যাটারাল ড্যামেজ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু ইতিহাস সব দেখছে। সবশেষে, ‘বাংলা ক্ষমা করবে না, এবং ভুলেও যাবে না’ বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।