ব্রেকিং
  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • CPIM votes for BJP in Bengal : ‘তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভোট’— অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় ‘বাম-রাম সমীকরণ’, অস্বস্তিতে সিপিএম

CPIM votes for BJP in Bengal : ‘তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভোট’— অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় ‘বাম-রাম সমীকরণ’, অস্বস্তিতে সিপিএম

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই একটি অপ্রকাশ্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছিল— বাম ভোটের একটি অংশ কি বিজেপির দিকে সরে যাচ্ছে? এতদিন সেই বিতর্ক ছিল মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ বা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এবার কার্যত সেই....

CPIM votes for BJP in Bengal : ‘তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভোট’— অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় ‘বাম-রাম সমীকরণ’, অস্বস্তিতে সিপিএম

  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • CPIM votes for BJP in Bengal : ‘তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভোট’— অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় ‘বাম-রাম সমীকরণ’, অস্বস্তিতে সিপিএম

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই একটি অপ্রকাশ্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছিল— বাম....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই একটি অপ্রকাশ্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছিল— বাম ভোটের একটি অংশ কি বিজেপির দিকে সরে যাচ্ছে? এতদিন সেই বিতর্ক ছিল মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ বা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এবার কার্যত সেই কথাই প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

শিলিগুড়িতে সিপিএমের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে বহু বাম সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর লক্ষ্যেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে ‘বাম-রাম’ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ তুলে আসছে যে বামেদের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।

শিলিগুড়ির সভায় অকপট স্বীকারোক্তি

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উপস্থিতিতে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশোক ভট্টাচার্য বলেন,

“বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় কাজ। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, গত তিনটি নির্বাচনে অনেক বামপন্থী তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এই ভুল যেন আর না হয়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম শিবিরের এক বর্ষীয়ান নেতার মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাধারণত এই ধরনের বিষয় দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না। সভামঞ্চে সেই মন্তব্যের সময় সিপিএম নেতৃত্বের মধ্যেও কিছুটা অস্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায় বলে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশের দাবি।

দীর্ঘ পতনের প্রেক্ষাপটে আত্মসমালোচনা

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বামেদের প্রভাব দ্রুত কমতে থাকে। টানা ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করা বামফ্রন্ট এখন বিধানসভায় কার্যত অস্তিত্বহীন।

২০১৬ ও ২০২১— দুই বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ফলাফল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২১ সালে কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করেও কার্যত সংগঠনগত শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি বাম শিবির। শেষ পর্যন্ত বামফ্রন্ট জোট মাত্র একটি আসন পায়, সেটিও আইএসএফের দখলে যায়।

এর পাশাপাশি গত কয়েকটি লোকসভা নির্বাচনেও বামেদের ভোট শতাংশ ক্রমশ কমেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, বামেদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশ বিজেপির দিকে সরে যাওয়াই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

‘বাম-রাম’ বিতর্ক নতুন নয়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাষ্যে ‘বাম-রাম’ শব্দবন্ধটি নতুন নয়। তৃণমূল কংগ্রেস বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, তৃণমূল বিরোধিতার নামে বাম ভোটের একটি অংশ বিজেপিকে শক্তিশালী করছে। বিজেপিও বিভিন্ন সময় দাবি করেছে, রাজ্যের বিরোধী ভোটের বড় অংশ তাদের দিকে আসছে।

যদিও বাম নেতৃত্ব বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিজেপিকে নিজেদের প্রধান আদর্শিক প্রতিপক্ষ বলে দাবি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০২৬-এর আগে বামেদের বড় চ্যালেঞ্জ

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বামফ্রন্টের কাছে এটি কার্যত অস্তিত্বের লড়াই। দীর্ঘদিন তৃতীয় শক্তি হয়ে থাকার পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সংগঠনগত সংকট আরও গভীর হতে পারে— এমন আশঙ্কা বাম মহলের একাংশের মধ্যেই রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাম ভোটের বিভাজন ঠেকানো এবং সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সিপিএমের বড় চ্যালেঞ্জ। অশোক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে অনেকেই সেই আত্মসমালোচনার অংশ হিসেবেই দেখছেন।

রাজনৈতিক তরজা বাড়ার সম্ভাবনা

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি-বাম সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আক্রমণ শানাতে পারে। একইসঙ্গে বিজেপিও দাবি করতে পারে যে বিরোধী ভোটের স্বাভাবিক প্রবাহ তাদের দিকেই বাড়ছে।

No Lovely in Sonarpur : সোনারপুর দক্ষিণে ঘ্যাচাং ফুঁ লাভলি মৈত্রের টিকিট, মমতা জানাতেই কেঁদে ভাসালেন লাভলি

ফলে একটি মন্তব্যই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান ধীরে ধীরে গরম হতে শুরু করেছে, তখন বাম শিবিরের এই আত্মসমালোচনা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের খবর