শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি নয়, এবারের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জিন্দালদের।
২১ এপ্রিল, সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিন্দাল গোষ্ঠী এই প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।
বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে দাঁড়িয়ে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন জিন্দাল গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজ্জন জিন্দাল। তিনি জানিয়েছিলেন, “শালবনিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এবার দেশের পাওয়ার হাউস হবে বাংলা।”
বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ২১ তারিখ শালবনিতে জিন্দালদের একটা পাওয়ার প্ল্যান্টের শিলান্যাস করতে যাচ্ছি। ৮০০ মেগাওয়াট করে দু’টি ইউনিট হবে। পূর্ব ভারতে এরকম আর নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “আমার আমলে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আমূল বদলেছে। এখন রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভর।”
শালবনির ২ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠবে জিন্দালদের এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, পরোক্ষে কর্মসংস্থান, শিল্পতালুক এবং পরিকাঠামোর বিকাশেও বড় ভূমিকা নেবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “গত ১৪ বছরে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এখন ২ কোটি ৩০ লক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। শুধুমাত্র গৃহস্থালির জন্য নয়, শিল্পের চাহিদা মেটাতেও আমরা প্রস্তুত।”
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে এই শালবনিতে জিন্দালদের ইস্পাত কারখানা হওয়ার কথা ছিল। জমি অধিগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পরও নানা জটিলতায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৮ সালে সেখানে তৈরি হয় রাজ্যের বৃহত্তম সিমেন্ট কারখানা। তবে শালবনির বাসিন্দাদের ‘ঘরের কাছে শিল্প’ দেখার স্বপ্ন তখনও অসম্পূর্ণই ছিল। এবার ভোটের আগে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এছাড়াও ২২ এপ্রিল গড়বেতা বা গোয়ালতোড়ে একটি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ করছে একটি জার্মান সংস্থা, বাকি ২০ শতাংশ রাজ্য সরকারের তরফে। পাশাপাশি, দুর্গাপুরে আরও একটি ৬৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “বাংলা এখন শিল্পপতিদের জন্য নির্ভরযোগ্য গন্তব্য তৈরি হয়েছে। আমরা ছ’টি ইকোনমিক করিডর করেছি।”