শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
ভোটের আবহে ফের রক্তাক্ত রাজ্য রাজনীতি। বুধবার সকালেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, সাতসকালে বিজেপি কর্মী ত্রিলোকেশ ঢালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ গঙ্গাসাগর উপকূল থানার অন্তর্গত শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড ও গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, আচমকা একটি মোটরবাইকে করে দুই দুষ্কৃতী এসে ত্রিলোকেশ ঢালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি চালানোর পর মুহূর্তের মধ্যেই বাইক নিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয় তারা।
গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ত্রিলোকেশ ঢালি। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাঁকে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে, তবে চিকিৎসা চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, এবং কী কারণে এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পুরনো বিবাদের জেরেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ত্রিলোকেশ ঢালি একসময় মথুরাপুর সংগঠনিক জেলা বিজেপির সেক্রেটারি পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাধারণ কর্মী হিসেবেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের আশ্রয়ে দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা জানি না ওই কর্মীর প্রাণরক্ষা হবে কিনা। বাংলায় হিংসার এই রাজনীতি কারা নিয়ে এসেছে, সেটা সবাই জানে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি নিয়ে যাব। পাশাপাশি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ওই থানার ওসিকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হবে। কঠোর শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই এলাকায় বিক্ষোভে নেমেছেন বিজেপি কর্মীরা। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। আহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্যরাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ত্রিলোকেশ ঢালির মেয়ে দাবি করেন, তাঁর বাবাকে পরিকল্পনা করেই আক্রমণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “বাবার বুকে গুলি লেগেছে। আমরা বিজেপি করি বলেই এই আক্রমণ হয়েছে। আমিও পঞ্চায়েত সদস্য। শাসকদলের মদতেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।”

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কিন্তু ভোটের আগে সব ঘটনাতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে জড়ানোর একটা রাজনৈতিক চেষ্টা চলছে। তদন্তেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।”
ভোটের মুখে গঙ্গাসাগরের এই গুলির ঘটনা যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকেই।