সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসকের উপর নৃশংস যৌন হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর রাজ্য সরকার যে কড়া আইন আনতে চেয়েছিল, সেই ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’-ই এবার রাষ্ট্রপতির প্রশ্নের মুখে পড়ল। বিধানসভা সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দফতর ওই বিলটি সম্প্রতি কিছু প্রশ্ন তুলে রাজভবনে ফেরত পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালের অগস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ধর্ষণ করে খুনের মতো অপরাধ রুখতে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে কঠোর আইন আনা হবে। সেই অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ হয় বিধানসভায়। বিলটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ধর্ষণের পর খুনের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা।
রাজভবন সূত্রে খবর, প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রের। তাছাড়াও প্রস্তাবিত শাস্তিকে নিষ্ঠুর ও সামঞ্জস্যহীন মনে করছে কেন্দ্র।
বিলটি অনুমোদনের জন্য প্রথমে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠানো হয়। সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির তরফে তা সম্প্রতি ফেরত পাঠানো হয়েছে কিছু ‘প্রশ্ন’ ও ‘আপত্তি’ সহ। এখন রাজভবনের তরফে সেই প্রশ্নাবলি পাঠানো হবে বিধানসভার সচিবালয়ে, যেখান থেকে তা যাবে নবান্নে।
বিধানসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রপতির তরফে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, তা রাজভবনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তারপরেই রাজ্য ঠিক করবে কী ব্যাখ্যা দেবে।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে রাজনীতি করছে কেন্দ্র? ধর্ষণ-খুনে মৃত্যুদণ্ডকে ‘অত্যধিক কঠোর শাস্তি’ বলে আপত্তি তোলা হলে তা গভীর উদ্বেগের।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি সত্যি হলে তৃণমূল তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অপরাজিতা বিল দ্রুত অনুমোদনের অনুরোধ জানায়। পরে মহিলা সাংসদরাও রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রাতরাশ বৈঠকে গিয়ে একই অনুরোধ জানান। তখন তৃণমূল সূত্রের দাবি ছিল, রাষ্ট্রপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।তবে এখন বিলটি ফেরত আসায় তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।