সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই তোলপাড় চলছে রাজ্যে। এই মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভয়ার বাবা। এমনকি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের নামও টেনে আনেন তিনি। অভিযোগ করেন, কুণাল ঘোষ নাকি সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে ঘুষের চুক্তি করেছেন মামলাটি সেটেল করার জন্য।
এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরেই কুণাল ঘোষ পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেন এবং মানহানির মামলা দায়ের করেন অভয়ার বাবার বিরুদ্ধে।
আদালতে শুনানি, তথ্যপ্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ অভয়ার পক্ষ
বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে মামলার শুনানি ছিল। অভয়ার বাবা ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়ে তাঁর আইনজীবী ফিরোজ এডুলজিকে পাঠান। কিন্তু আদালতে কোনো প্রমাণপত্র, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বা সংশ্লিষ্ট দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। বরং আইনজীবীর দাবি ছিল, ঠিক কী বলা হয়েছিল তা বোঝার জন্য ভিডিও ফুটেজ বা পেনড্রাইভ সরবরাহ করা হোক। এই পরিস্থিতিতে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ।
তিনি বলেন, “এভাবে প্রমাণ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে লুস টক করা! ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘সিবিআই ঘুষ খেয়েছে, রাজ্য সরকার টাকা পাঠিয়েছে, কুণাল ঘোষ সেটেলড করেছে’। আর কোর্টে দাঁড়িয়ে সেটা বলতে পারছেন না। উল্টে বলছেন, কী বলেছিলাম ভিডিওটা দিন, একবার দেখব। এটা আসলে সময় নষ্ট করার চেষ্টা।”

কুণাল ঘোষের কড়া প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল নেতা আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আসলে ওরা নিজেরাও জানেন যে ডাহা মিথ্যে কথা বলেছেন। তাই লুজ টক করে এখন রণে ভঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, অভয়ার বাবার প্রতি তাঁর পূর্ণ সহমর্মিতা আছে। একজন পিতার ক্ষোভ তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত যন্ত্রণা বা ক্ষোভ থেকে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তোলা উচিত নয়।
সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গত বছরের ৮ আগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়ার ধর্ষণ ও খুন হয়। ঘটনার পর থেকেই অভয়ার পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানায়। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে তারা বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দিল্লিতে সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও হতাশ হয়েছিলেন অভয়ার বাবা। একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অভিযোগ করেছেন, সিবিআই ঘুষ নিয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রভাব কাজ করছে, তদন্ত এগোচ্ছে না।
এই অভিযোগের জেরেই কুণাল ঘোষকে নিশানা করেন তিনি। কুণালবাবুর মতে, ভিত্তিহীন এই অভিযোগ তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই আইনের পথে হেঁটেই তিনি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে মামলাটি ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারাধীন। আগামী শুনানিতে অভয়ার বাবার আইনজীবী কোনো তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেন কিনা সেটাই নজরে থাকবে। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন এবং সত্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না। এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।