সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘পিপল–ফার্স্ট বাজেট দূরদর্শিতা, সহানুভূতি ও সুসংহত বিকাশের দিশা দেখিয়েছে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মা, মাটি, মানুষের সরকার।’ এভাবেই 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শেষ বাজেট পেশ হওয়ার পরে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত গত রবিবার কেন্দ্রের মোদি সরকার আগামী আর্থিক বছরের জন্য যে বাজেট পেশ করেছে তাকে জনবিরোধী বলে অভিযোগ করে অভিষেক নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘এই বাজেটটি দিশাহীন, ভিত্তিহীন। সরকার তো খেলছে। বাজেট তৈরি করা কেন্দ্রের কাজ। এটি সরকারের মূল্যনির্ধারণের বাজেট ছিল। ৮৫ মিনিটের এত বড় বাজেটে বাংলার নাম একবারও নিল না। কয়েক সেকেন্ডও করেনি। বাংলাকে বাংলাদেশের নজরে দেখলে কেন্দ্রের সরকার দেখে, এখানকার মন্ত্রীরা দেখেন, যারা বাজেট বানিয়েছেন তারা দেখেন নাহলে ৮৫ মিনিটের বাজেটে বাংলার নাম একবারও থাকবে না? জল জীবন মিশনের টাকাও আটকে রেখেছেন। ২০২১-র পর থেকে যেভাবে বাঙালিদের অত্যাচার করেছে নির্বাচনী বাজেটের কথা এই সরকারের থেকে আশাও করা যায় না। তারা ভাবে খরচ করলেও হারবে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।’
‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণ–যুবকদের পাঁচ বছর বছর ধরে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার পদক্ষেপকেও ‘ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত’ বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিষেকের পর্যবেক্ষণ— এতে তরুণ–যুবকরা আয়ের সুযোগ তৈরির জন্য উৎসাহ পাবেন। আশা ও আইসিডিএস কর্মী, প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশদের ভাতাও যে ভাবে বাড়ানো হয়েছে, তাতে সমাজের যে মানুষগুলো সামনে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, বাজেটে তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হলো বলে মত অভিষেকের। এই বাজেটে মহিলাদের সশক্তিকরণের জন্যই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে অভিষেক মনে করছেন। মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানোয় জেনারেল ক্যাটিগরির মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি–উপজাতির মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পাবেন। অভিষেকের কথায়, ‘এই বাজেট স্বনির্ভর বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আশার সঞ্চার করবে, আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং এটা একটা শক্তিশালী পদক্ষেপের নিদর্শন। মানুষের জন্য সত্যিকারের একটি বাজেট পেশ করার জন্য মা–মাটি–মানুষের সরকারের প্রতি আমার অভিনন্দন রইল।’
তাঁর কথায়, ‘ভূমিহীন কৃষকদের চার হাজার টাকা করে বরাদ্দ একটা দূরদৃষ্টিমূলক পদক্ষেপ এবং একেবারে তৃণমূল স্তরের সমস্যাকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি টিউবওয়েল এবং আরএলআই স্কিমের আওতায় সেচের কাজে সম্পূর্ণ ছাড়ের ফলে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকখানি সুবিধা হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতও শক্ত হবে। ২০০৬–এর সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় থেকেই ধারাবাহিক ভাবে তৃণমূল তার কাজের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে রয়েছে।’