সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বাংলার মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি ভোটারের নাম। এমন অভিযোগ করে কয়েক দিন আগেই কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এসআইআর ২৬-শে ২৬ নামের বই প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এসআইআর নিয়ে গোটা একটি কবিতা লিখে ফেললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে কবিতার ছবিটি পোস্ট করে অভিষেক লেখেন, মানুষের জীবন ভেঙে দেওয়া এক ‘কুপ্রক্রিয়া’র বিরুদ্ধে নিজের অন্তর্দাহ ও জনতার যন্ত্রণা, ক্ষোভকে তিনি কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন বলেই তাঁর দাবি।
পোস্ট করা কবিতার শিরোনাম ‘আমি অস্বীকার করি’। কবিতার পরতে পরতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রযন্ত্র, ক্ষমতা, ইতিহাস ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। কোথাও সংখ্যার হিসাবকে অস্বীকার করে মানুষের মুখের কথা বলেছে কবিতা, কোথাও আবার ‘ক্ষমা’ আর ‘ভুলে যাওয়ার’ সংস্কৃতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কবিতার ভাষায় বার বার ফিরে এসেছে ইতিহাসের সাক্ষ্য—কে দেখেছিল, কে চুপ করে ছিল, আর কে প্রতিবাদ করেনি।
লাল-সাদা রঙে তৈরি কবিতার পোস্টারে কলমের ছবি, রক্তাভ ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নীচে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর। সব মিলিয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
অভিষেক লিখেছেন—
আমি অস্বীকার করি
আমি অস্বীকার করি-এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।
আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ,
আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও”
আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।
তারা বললো “এগুলো যথেষ্ট নয়”
আমরা বললাম তবে বলো কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) এটা সংখ্যা নয়,
এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।
এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ।
রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান,
শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে
সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে।
নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে
তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে?
যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে
সে আইন; আইন নয়
সে আইন ফাঁসি।

আমি শান্তি চাই না – অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর!
যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর
আমি শুধু একজন মানুষ নই আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী
যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।

আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না।
ইতিহাস মনে রাখে
কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল,
কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল!
যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে
যে শাসক মানুষের কথা শোনে না
যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।