সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘অধীর চৌধুরীর প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। আমি দাদা বলি। তিনি যেখানেই প্রার্থী হবেন, তাঁকে জেতানোর জন্য যা করার করব।’ এভাবেই নিজের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানালেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই হুমায়ুন স্বীকার করেছিলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে অধীরকে হারানোর জন্য তৃণমূলের হয়ে কাজ করে ভুল করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, সম্ভবত মুর্শিদাবাদে নিজের পায়ের তলার মাটি আরও শক্ত করতেই অধীর বন্দনা শুরু করেছেন হুমায়ুন।
একই সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের হুঁশিয়ারি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সদ্য দল বদল কের কংগ্রেসে যাওয়া মৌসম নূর সহ রাজ্য রাজনীতির সব বড় মুখদের বিরুদ্ধেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেবে তাঁর দল।
সিপিএম তথা বামেদের সঙ্গে জোট জল্পনায় জল পড়েছে। অন্যদিকে আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকিও বামেদের সঙ্গেই জোট করতে আগ্রহী। ফলে নতুন দল তৈরি করেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোট সঙ্গী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তবে জোট সঙ্গী না পেলেও দমছেন না হুমায়ুন। ভরতপুরের বিধায়ক অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বামেদের সঙ্গে তাঁর দলের জোট হচ্ছে না। জোট সম্ভাবনা শেষ হতেই এ দিন সিপিএমকেও আক্রমণ করেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। তবে ব্যক্তি সেলিমকে সমর্থন করতে চান তিনি।
হুমায়ুন বলেন, ‘অধীরবাবুর মতো লোকের বিধানসভায় দরকার। তিনি যদি হাত প্রতীকে লড়াই করেন, তাঁকে হারানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ করব না। তাঁকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করব। আমি বামফ্রন্টের সঙ্গে নেই। আর মহম্মদ সেলিম যদি মুর্শিদাবাদের কোনও আসনে লড়েন, তাহলে তাঁকে সমর্থন করব। সেলিম যাতে বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় আসেন, সেই চেষ্টা করব।’ বাম শরিকদল ফরওয়ার্ড ব্লককে কটাক্ষ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ফরওয়ার্ড ব্লক একটা অস্তিত্বহীন পার্টি। বামফ্রন্ট এদের নিয়ে থাকুক।’
হুমায়ুন জানিয়েছেন, জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং তার সহযোগী দলগুলি কোথায় কোথায় প্রার্থী দেবে, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি তা ঘোষণা করে দেওয়া হবে।