সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আমার মনে হয়েছে, এই সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, বিজেপিকে আটকানোর জন্যে যে ভাবে গোটা দেশে মানুষের কণ্ঠরোধ হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে সবথেকে বড় শক্তি হল তৃণমূল। সেই কারণেই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি।’ এমন বিস্ফোরক দাবি করে প্রত্যাশিতভাবেই সিপিএমের সদস্য পদ ছেড়ে আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হাত থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন তরুণ বাম নেতা প্রতীক-উর রহমান।
শনিবার দুপুরে আমতলা অভিষেক বন্দ্যোপলাধ্যায়ের কার্যালয়ে পৌঁছন সিপিএম ত্যাগী প্রতীক উর রহমান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪.১০ নাগাদ সেখানে পৌঁছন প্রতীক উর। এর পরই আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।
আর নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এক প্রতিষ্ঠিত সিপিএম নেতাকে তৃণমূলে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতীকের সঙ্গে তৃণমূলের ডিল হয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে তাকে হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘প্রতীক-উরকে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন। ডিল কী? টিকিট পাচ্ছেন। প্রতীক-উর নিজে এসে আমায় বলছেন, দল টিকিট দিলেও নেব না।’ এর পরেই অভিষেক সিপিএম-কে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘একটা ছেলেকে জানেন না, যে এত দিন দল করল, তাকে চেনেন না। তাকে আগেই ঘোষণা করে দিলেন, সে বেইমান।’ অভিষেকের কথায়, ‘সে আপনার বশ্যতা স্বীকার করেনি। খুব গায়ে জ্বালা সেলিমবাবুদের।’
প্রতীক উর বলেন, ‘বিজেপিকে ঢুকতে দেবো না- তৃণমূল এর সঙ্গে এই ডিল হয়েছে। মার খেয়েছিলাম সিপিএম এর জন্য, কিন্তু তারা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। রাজা তোর কাপড় কোথায় জিজ্ঞেস করেছিলাম। তাই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৃজন, দীপ্সিতা জয়েন করবে কি না জানি না।’ গত রবিবার সিপিএমের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রতীক উর। সেই চিঠি সংবাদ মাধ্যমের সামনে চলে আসায় বিতর্ক শুরু হয়। গত চার দিন ধরে নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন দলত্যাগী বাম যুবনেতা প্রতীক উর রহমান। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদা বাম যুবনেতার দলবদলে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। এ দিন তৃণমূলে যোগদানের পরে প্রতীক বলেন, ‘আমি সিপিএম-এ ছিলাম তখন বলেছিলাম, লক্ষ্মীর ভান্ডার ভিক্ষা নয় অধিকার চাই। পরে দল বলল ভিক্ষা বলা ঠিক হবে না। লোকের মধ্যে রিয়্যাকশন আছে। ভোট আরও কমে যাচ্ছে। আমরা বললাম ভাতা বাড়াতে হবে। পরোক্ষভাবে তৃণমূলের স্কিমের কথাই তো মেনে নিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নীতি বিজেপিকে রুখে দেওয়া। বিজেপিকে আটকাবই। বলছে না ডিল হয়েছে-বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাব। সিপিএম-এ ছিলাম তখন বিজেমূল-বিজেমূল বলে রটিয়েছে। তৃণমূল সেটা ভুল প্রমাণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গেলেন আর প্রতিদিন তৃণমূল সিপিএমকে বলছে, বিজেপির বি টিম। ভোট ট্রান্সফার করেছ এটা প্রমাণ করতে হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিম বসলেন। ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতাদের নিয়ে আলিমুদ্দিনে বসলেন। শুভেন্দু দুদিন আগে সেলিমকে আক্রমণ করেছেন। লোকসভা নির্বাচনে কতবার ফোন করেছিলেন কী কথা হয়েছিল? ঠিক আছে আস্তে আস্তে বেরোবে।’
তরুণদের তৃণমূলে আহ্বান অভিষেকের
প্রতীক উরের যোগদানের পরেই তরুণদের তৃণমূলে যোগদানের বার্তা দিলেন অভিষেক। এদিন দলে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘যারা তরুণরা আছে, তাদের বলবো, তৃণমূলে আসুন। যতদিন আমি আছি, আমি সুযোগ করে দেব। আমি কথার মাধ্যমে বললাম, যদি কেউ আসতে চায়, মানুষের কাজ করার সদিচ্ছা থাকলে আসুন। তৃণমূল তরুণদের সুযোগ দিয়েছে। নতুন পুরনোর সংমিশ্রণে দল শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’ তৃণমূলের তরুণ প্রজন্মের কথা বলতে গিয়ে দলের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষের উদাহরণ দেন অভিষেক।
প্রতীক উরকে বহিষ্কার সিপিএমের
দল বদল করার পরেই দলের গঠনতন্ত্র মেনে প্রতিক-উর রহমানকে বহিষ্কার করল সিপিআইএম। প্রতীক-উরের দলত্যাগের পরে সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এই প্রসঙ্গে সিপিএম জানিয়েছে, ‘গতকাল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক শেষ হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতীক-উর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। শত্রুশিবিরে যোগদান করা এবং পার্টি বিরোধী কার্যকলাপ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’