সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিধানসভা ভোটের উত্তাপে যখন বাংলার রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশই আরও তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন Mithun Chakraborty। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক—এই রূপান্তরের পর তিনি এখন বিজেপির অন্যতম বড় প্রচারমুখ, আর সেই ভূমিকা থেকেই একের পর এক তীক্ষ্ণ বার্তা দিচ্ছেন শাসকদলকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—দল যদি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চায়, তাহলে কি তিনি সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত? জবাবে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না রেখে মিঠুন বলেন, “দল বললে তিনি দায়িত্ব নিতে সদা প্রস্তুত”। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও আসন থেকে প্রার্থী নন, তবুও নিজেকে বৃহত্তর ভূমিকায় দেখতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন।
মিঠুনের যুক্তি পরিষ্কার—একটি আসনে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি গোটা রাজ্য জুড়ে ঘুরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চান। তাঁর কথায়, “আমি যদি লড়তাম, তাহলে একটি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। তার বদলে আমি গোটা রাজ্য জুড়ে ঘুরে আরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই।” এই কৌশল যে বিজেপির বৃহত্তর প্রচার পরিকল্পনার অংশ, তা বলাই বাহুল্য।
তবে শুধু ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, রাজনৈতিক আক্রমণেও এদিন যথেষ্ট সরব ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে মিঠুন অভিযোগ করেন, এই সরকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং রাজ্যের চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক নীতির কারণে রাজ্য ক্রমশ সংকটের দিকে এগোচ্ছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য আসে ধর্মীয় প্রসঙ্গে। মিঠুন বলেন, “আমার মনে হয়, বিজেপি হারলে বাংলায় হিন্দুরা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।” যদিও একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়।” এই বক্তব্যে একদিকে যেমন সমর্থকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে, তেমনই বিরোধীদের সমালোচনাও তীব্র হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আদিবাসী স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু অসঙ্গতি থাকলেও এই প্রক্রিয়ায় আগের অনেক ভুলও ঠিক হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মিঠুন চক্রবর্তীর এই ধারাবাহিক মন্তব্য স্পষ্ট করছে—তিনি শুধু প্রচারমুখ নন, বরং বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানে এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর খোলা বার্তা যে আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।