সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘যে হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করছেন, তাঁরা ভাল ভাবে জানেন ৯০-১০০ শতাংশ মুসলিম সমর্থন মমতার কাছে আছে। ওই মুসলিম ভোট সরে গেলে হিন্দুরা দেখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় আসবেন না। তখন তাঁদের একটাই বিকল্প, যেটা বিজেপি। আমি সোজাসুজি বলছি, আমাকে ভোট দাও। ওখানে মুখ্যমন্ত্রী যে-ই হবেন, নির্ণায়ক ভূমিকা আমার হাতে থাকবে। আগামী দিনে যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার হোন। হিন্দু হলে হবেন। আমার কোনও টার্গেট নেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। কিন্তু যে-ই হবেন, আমার কাছে ২৯৪টির মধ্যে ৮০-৯০টা সিট থাকলে, আগামী দিনে সেই মুখ্যমন্ত্রীকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এজেন্ডা রাখব।’ তৃণমূলের ফাঁস করা গোপন ভিডিওতে এমন বিস্ফোরক দাবি করতে শোনা গেল তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বেড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হুমায়ুন কবীরকে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূলের দপ্তর থেকে এই ভিডিও প্রকাশ করেন তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং কুণাল ঘোষ। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেনি কলকাতা সারাদিন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের দাবি, বিজেপির কাছ থেকে ১০০০ কোটি টাকা চেয়েছেন হুমায়ুন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে ভিডিয়োয়। মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছেন? না কি গোটা রাজ্যের? এই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পুরো রাজ্যের। পুরো রাজ্যের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছি। দেখুন না, ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ছিল। তার পরের দিন ছিল শনিবার। তার ছ’দিন পর জুম্মার দিনে কাউকে ডাকিনি। নিজে থেকেই পুরো রাজ্যের ১ লক্ষ মুসলিম লোক চলে এলেন জুম্মার নমাজ পড়ার জন্য। ওদের ঘরে ঘরে ভাল মার্বেল দেওয়া মসজিদ আছে। সেই মসজিদ ছেড়ে এখানে চলে আসছে। এতটাই আবেগ। রাজ্যের তো আসছেই, পাশের ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, ত্রিপুরারও কিছু লোক আসছে। ২ লক্ষ…। নমাজ পড়ার জন্য। মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সেটা ফেব্রুয়ারি-মার্চে হবে শুরু। কিন্তু এতটাই আবেগ, আগের শুক্রবারও এক লক্ষ লোক এসেছিল। আজ আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল।’
তিনি তৃণমূলের মুসলিম ভোট কেটে বিজেপির জয়ের রাস্তা সুগম করবেন বলে হুমায়ুনের দাবি, ‘আমি যত মুসলিম লোককে আমার জন্য ভোট দেওয়ার আওয়াজ তুলছি, তো অটোমেটিক্যালি আপনার হিন্দু ভোট, আপনার কাছে যাবে। বিজেপির কাছে যাবে। আমি মমতাকে কোনও ভাবেই আসতে দেব না।’
এই বিষ্ফোরক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ভয়ঙ্কর বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিপুল ভোটে জিতছেন বলে মানুষ নিশ্চিত, বাংলা নিশ্চিত, বিজেপি নিশ্চিত। সে জন্য কত রকম ভাবে ভোটে কারচুপি বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে, তার উদাহরণ এই ভিডিয়ো। বিজেপি ‘বি’ টিম, ‘সি’ টিম তৈরি করছে ভোট ভাগের জন্য। মুসলিমদের ভোট ভাগের জন্য হুমায়ুন কবীরের মতো লোককে ব্যবহার করছে।’

অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা মাকে বাঁচাতে হবে। বাংলায় কথা বললে মেরে ফেলছে। পৃথিবীতে এক জন সৎ মানুষ থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওরা ভেবেছিল বিহার, মহারাষ্ট্রে যে ভাবে জিতেছে, এখানেও পারবে। বাংলার মাটি অত সহজ না। তাই এসআইআর নিয়ে আজও মমতা লড়ছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করুক বিজেপি, বাংলার মানুষ ওদের মেনে নেবে না।’

তবে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘ভিডিয়ো শুনলেন! কী ভাবে মুসলিম ধর্মকে বিক্রি করছে এই কুলাঙ্গার। মসজিদের নামে ভাবাবেগ সওদা করছে। হাজার কোটি টাকা চাইছে, ৩০০ কোটি টাকা আগাম চাইছে। আমরা যাঁরা মুসলিম সমাজের মানুষ, আমরা কি বুদ্ধিহীন, যে আমাদের ধর্মীয় আবেগ বিক্রি করে দেবে, তার পরেও আমরা চুপ করে থাকব? আমার এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজের কাছে রইল। এই মানুষটিকে ধিক্কার জানাব।’