শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
মোথাবাড়ি যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে। মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। শুভেন্দু জানিয়েছেন, একজন নিরাপত্তারক্ষী ও একজন বিধায়ককে নিয়ে তিনি মোথাবাড়ি যেতে চান। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। অন্যদিকে, মোথাবাড়িকাণ্ডের প্রতিবাদে, কাঁথিতে মিছিলের অনুমতি চেয়ে মামলা করে বিজেপি। ৩ এপ্রিল কাঁথিতে মিছিল করতে চায় বিজেপি।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, কোনও মিছিল করবেন না তিনি। সেক্ষেত্রে সমস্যা কিংবা কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথাই নয়। তিনি কেবল এক জন নিরাপত্তারক্ষী ও বিধায়ককে নিয়ে যেতে চান। শুভেন্দুর আবেদনের গোটা বিষয়টি বিবেচনা করবে আদালত। এর আগে মোথাবাড়ি গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু মোথাবাড়ি ঢোকার আগেই পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন সুকান্ত। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে হিংসার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি যুব মোর্চার আবেদন সত্বেও কলকাতা পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষ্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পক্ষ থেকে আগামীকাল অর্থাৎ ২রা এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ৬, মুরলী ধর সেন লেন থেকে দুপুর ২ টোর সময় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। গত ৩০ তারিখ সেই মর্মে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি ও চাওয়া হয়, যথারীতি পুলিশ যানজটের সমস্যা দেখিয়ে সেই অনুমতি দেয় নি। বিরোধীরা মিটিং মিছিল করতে অনুমতি চাইলেই তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে, ফলে আমাদের মহামান্য আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র বিরোধী দল বিজেপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছ থেকে কখনো অনুমতি পায় না। যদি জনসাধারণের অসুবিধা, যানজট বা আইনশৃঙ্খলার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তবে তৃণমূলের কর্মসূচিতে কেন এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না?
এই দলদাস পুলিশের কাছে আমি জানতে চাই অনুমতির কপিরাইট কি শুধু শাসক দল তৃণমূলের জন্য? শহরের রাস্তায় যখন তৃণমূলের মালিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করেন অথবা তৃণমূলের দ্বিতীয় তৃতীয় সারির নেতা মন্ত্রীরা রাস্তা দখল করে অবস্থান, বিক্ষোভ, মিছিল করেন তখন কি যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হয় না? নাকি তখন সাধারণ মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হন না।

আগেও বলেছি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ দলদাসে পরিণত হয়েছে। আমি শুধু পুলিশকে একটাই পরামর্শ দিতে চাই আপনার উর্দিটার আর অপমান করবেন না, ওটা ছেড়ে তৃণমূলের ঝান্ডাটা ধরে ফেলুন, তাহলেই ষোলোকলা পূর্ণ হয় কারণ এই পক্ষপাতমূলক আচরণ রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের উপর গভীর প্রশ্নচিহ্ন তুলছে।”