জলাজমি দখলে রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তা? কলকাতা হাইকোর্টের কঠোর পর্যবেক্ষণ
কলকাতার মুকুন্দপুরে জলাভূমি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে মামলায় নতুন মোড়। এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার মন্তব্য রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, মাত্র কয়েকটি ছোট দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই উত্তরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন বিচারপতি।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “একটা একচালার দোকান ভেঙে বলছেন বেআইনি নির্মাণ ভেঙেছেন?” এই পর্যবেক্ষণ থেকেই স্পষ্ট, আদালতের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। জলাজমি সংরক্ষণে বারবার সময় দিয়ে কাজের অগ্রগতি না দেখতে পেয়ে আদালত এবার কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
কতটা নির্মাণ ভাঙা হয়েছে, জানাতে বললেন বিচারপতি
বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, যেখানে ৫৫০টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ, সেখানে মাত্র দুটি খুঁজে পেল রাজ্য? এও কি সম্ভব? তাই রাজ্যকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে—ঠিক কতগুলি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার মধ্যে ক’টি বাস্তবে ভাঙা হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীরা বলেন, কিছু দোকান চিহ্নিত হয়েছে।
এই অজুহাতে অসন্তুষ্ট আদালত জানায়, জলাজমি ফেরত চায় আদালত ও শহরের নাগরিকেরা। বারবার সময় দিয়ে কাজ না হলে আদালত কঠোর হতে বাধ্য হবে। এটি শুধুমাত্র পরিবেশ নয়, নাগরিক অধিকার এবং শহরের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
রিপোর্ট জমা দিয়েও সন্তুষ্ট নয় আদালত
ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চিফ টেকনিক্যাল অফিসার অগস্টেই একটি রিপোর্ট পেশ করেন। কিন্তু বিচারপতি তাতে সন্তুষ্ট নন। বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরুদ্ধে।
১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ
এই পরিস্থিতিতে আদালত ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে যাতে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আদালতের বক্তব্য, শুধু রিপোর্টে কিছু লেখা থাকলে হবে না—কাজ চাই, ফল চাই।
Wetland Encroachment in Kolkata নিয়ে এই মামলায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—জলাভূমি রক্ষা শুধুই পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি শহরের অস্তিত্বের প্রশ্ন। বেআইনি নির্মাণ বন্ধ না হলে শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। আদালত এই বিষয়ে এখন আর কোনও ছাড় দিতে রাজি নয়।