শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলে আজ পশ্চিমবঙ্গের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী।’ বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রেক্ষিতে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মমতার পাঠানো চিঠির ছবি পোস্ট করে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘মহাশয়া নির্বাচন কমিশনকে তিন পৃষ্ঠার একটি পত্র পাঠিয়েছেন। একটি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে তিনি বারবার এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, সাংবিধানিক বিধি ব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন ও তার আধিকারিকদের প্রতি লাগাতার হুমকি-হুশিয়ারি ছুড়ে দিয়েছেন। অথচ এই সব ভয় দেখানো এবং চাপ সৃষ্টির কোনো ফলই হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত নাটক, ধমক ও উন্মত্ততার পরও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই এসআইআর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণ হবেই।প্রকৃতপক্ষে গত কয়েকদিনে মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তি ও হতাশা চরমে পৌঁছেছে। কারণটি এই মুহূর্তে দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা, যারা এতদিন তৃণমূলের আশ্রয়ে এবং প্রশ্রয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে নিশ্চিন্তে মহাসমারোহে বসবাস করছিল, তারা এখন বিভিন্ন সীমান্তে বর্ডার খুলে যাওয়ার অপেক্ষায়। এই দৃশ্যগুলো মুখ্যমন্ত্রীর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার অন্যতম প্রধান কারণ। সম্ভবত সেই কারণেই তিনি এখন মরিয়া হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন।’
এখানেই শেষ নয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেভাবে আগাগোড়া এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন তার প্রেক্ষিতে মমতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, ‘তবে কি আপনি এতদিন এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটেই জয়ী হয়ে এসেছেন? দয়া করে বিষয়টি অবিলম্বে জনসমক্ষে পরিষ্কার করুন। তৃণমূল কংগ্রেসের হুমকি, হুশিয়ারি, মিথ্যাচার এবং অসংখ্য গুন্ডামির মধ্যেও ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে। আর যদি মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই বাস্তবতাকে মানতে না পারেন, তাহলে তাঁর উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।’

যদিও কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটা বলা মানে…ধরুন বিয়েতে কাউকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াচ্ছেন। ভাত-ডাল-শাক-মাছ-ভাজার পর মিষ্টি ও চাটনি দেওয়ার পালা এলে বলছেন, আর খেতে দেওয়া হবে না। বাড়ি যাও। এই এসআইআর ডেকে এনেছিলেন কে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিএলও কারা? মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দলেরই ৮০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ভোট লুঠ হয়। আজ এসআইআর যখন এল, বড় বড় ভাষণ দিলেন। বললেন, রক্তগঙ্গা বইবে, এসআইআর হতে দেবেন না। তখনই বলেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবচেয়ে বেশি তৎপর হবেন এসআইআর চালু করতে। জ্যান্তকে মরা, মরাকে জ্যান্ত করার কাজটা তৃণমূল করে। সুচারু ভাবে ওরাই এসআইআর চালু করাল। এখন যখন প্রশ্ন উঠছে, চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ করে দাও। এগুলোকে বলে নাটক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নাটকে অভ্যস্ত।’