সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সরকার গঠন নয়, বিধানসভায় বিরোধী আসনে বসতে চান সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ১৩৫ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা আগেই বলেছিলেন তিনি। তবে তাঁর টার্গেট ৯০ টি আসন! হুমায়ুন কবীরের দাবি, ‘২০২৬ এ তৃণমূল বা বিজেপি কেউই একক ভাবে সরকার গড়তে পারবে না। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন হুমায়ুন কবীরের সাহায্য নিতে হবে। আমাকে না নিয়ে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। কংগ্রেস সাইন বোর্ডে পরিণত হয়েছে। ছাব্বিশে ওদের চিহ্ন থাকবে না। মিম আমার সঙ্গে থাকলে যদি কংগ্রেস না থাকে, থাকবে না। মিমের সঙ্গেই আমি থাকব। আমি বিজেপিতে গেছিলাম তৃণমূলের অত্যাচারে। সেদিন কংগ্রেস আর অধীর আমাকে শেল্টার দিতে পারে নি। তাই গিয়েছিলাম। তৃণমূলের থেকে অনেকেই আমার ঘনিষ্ঠদের বার্তা পাঠিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলে ফেরার কোন প্রশ্নই নেই। তৃণমূল আমাকে যে হেনস্থা করেছে, এতটা করার প্রয়োজন ছিল না। আমি তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছি। যে কেউ আমার সঙ্গে জোট করতে পারে। আমি কার ভোট ভাগ করব , কার ক্ষতি হবে জানি না । আমি আমার মত প্রার্থী দেব। তাতে কার কী হল. আমার কিছু যায় আসে না। আমি ১৩৫ টা আসনে প্রার্থী দেব। ৮০ টা আসন জিতে বিরোধী আসনে বসব । এটাই আমার লক্ষ্য।’
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গাতে বিতর্কিত বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা ঘোষণা করার পর থেকেই নাকি তার কাছে দেশের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি বিদেশ থেকেও আসছে প্রাণনাশের হুমকি। আগেও এমন দাবি করেছিলেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবারে সরাসরি রাজ্য সরকার অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন না জানিয়ে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনপর্বেই হুমায়ুন অভিযোগ করেছিলেন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শনিবার বেলডাঙায় ‘বাবরি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। সোমবারই তিনি প্রাণনাশের হুমকি পান বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘রোজ বাইরের রাজ্য থেকে ফোন আসছে’, ‘প্রাণনাশের হুমকি আসছে’। তবে নিরাপত্তা চেয়ে যে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে আবেদন জানাবেন, সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন কবীর। হুমায়ুনের কথায়, ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু আগে তিনি রাজ্য থেকেই নিরাপত্তা পেতে চান ও সেটি আদালতের মারফত! তবে রাজ্যের তরফ থেকে বিধায়ক হিসাবে যে নিরাপত্তা তিনি পেতেন, তা এখনও ফেরত নেওয়া হয়নি। কিন্তু তাঁর কথায়, যেভাবে তাঁর কাছে অহরহ হুমকি ফোন আসছে, তাতে বাড়তি নিরাপত্তা দরকার।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দাবি, কেন্দ্র তাঁকে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিল। কিন্তু আমি বলেছি, আমি হাইকোর্টে যাব। হাইকোর্ট যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, সেই মোতাবেক নিরাপত্তা নেব।’ তাঁর বক্তব্য, ‘এমনিই শাসকদলের ছোট-বড়-মেজো সবাই বলছে, আমি নাকি বিজেপি দ্বারা প্রভাবিত। এরপর যদি আমি কেন্দ্রের নিরাপত্তা গ্রহণ করি, এরা আরও বলার সুযোগ পেয়ে যাবে। আমাকে আমার এক ঘনিষ্ঠ, যিনি বড় শিল্পপতি, তিনি নিজের দায়িত্বে আমাকে সিকিউরিটি গার্ড দিচ্ছেন। হায়দরাবাদ থেকে ৮ জন এসেছেন।’ হুমায়ুন কবীরের দাবি, ‘নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে রাজ্য সরকার ও পুলিশকে ইমেল করব। নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রকেও বলব।’