সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাইশে শ্রাবণের দিনেও রবীন্দ্র-স্মৃতি নিয়ে উত্তাল হলো লোকসভা। বাংলাদেশে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়ে সংসদে সরব হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে মোট পাঁচটি প্রশ্ন রাখেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহম্মদ ইউনুসের আমলে বারবারই বাংলাদেশে বাঙালি সংস্কৃতি ও আবেগে আঘাত করা হয়েছে। এই আবহে রবীন্দ্রনাথের কাছারিবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, কাছারিবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ভারত কি বাংলাদেশের কাছে কোনো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে? বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশ্বাস দিয়েছে কি না? এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে? ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ কোনো যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে কি না?
সংসদে অভিষেকের এই পাঁচ প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রক জানায়, রবীন্দ্র স্মৃতি মুছে ফেলার এই চেষ্টার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশকে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করার কথা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, বাংলা ভাষা এবং ভোট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সংসদ চত্বরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল। এই বিক্ষোভে তৃণমূলের পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিক দল, যেমন কংগ্রেসের সাংসদরাও যোগ দেন। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল সাংসদদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘বাংলার অপমান মানছি না, মানব না’। বাংলা ভাষায় কথা বলায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি পোস্টে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে দাবি করেন এবং বলেন, ‘বাংলা বলে কোনো ভাষাই নেই।’ তৃণমূলের সাংসদরা এই মন্তব্যকে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান বলে আখ্যা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে, ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ভোট চুরির অভিযোগও তোলা হয়। তৃণমূল সাংসদদের হাতে ‘ভোট চুরি’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা ‘নির্বাচন কমিশন হায় হায়’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন লজ্জা’ বলে স্লোগান দেন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও গলা মেলান। এছাড়াও বিহারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রতিবাদ করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই এসআইআর-কে ‘সাইলেন্স ইনভিজিবল রিগিং’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদ। এই সম্মিলিত প্রতিবাদে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়িয়ে বিরোধী দলগুলি তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরেছে।