সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘এই এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য আর কত প্রাণ হারাতে হবে? আর কত মানুষকে মরতে হবে?
এই প্রক্রিয়ার জন্য আর কতগুলো মৃতদেহ দেখব আমরা?’ নদিয়ায় বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন তুলে তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে চলতেই খবর আসে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হয়েছেন এক মহিলা প্যারা-শিক্ষিকা, চাপড়া বিধানসভার ৮২ নম্বর আসনের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও রিঙ্কু তরফদার। শুক্রবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিঠি রেখে গিয়েছেন, যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপ এবং পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন তিনি। এই বিষয়টি জানার পরেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা লেখেন, ‘আরও একজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি মর্মাহত। কৃষ্ণনগরে পেশায় পার্শ্বশিক্ষক এক মহিলা বিএলও নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। এসি ৮২ চাপড়া-র ২০১ নম্বর পার্টের বিএলও ছিলেন রিঙ্কু তরফদার। তিনি আত্মহত্যার আগে লেখা সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। এই এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য আর কত প্রাণ হারাতে হবে? আর কত মানুষকে মরতে হবে? এই প্রক্রিয়ার জন্য আর কতগুলো মৃতদেহ দেখব আমরা? দিনে দিনে আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই ধরনের অভিযোগ।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এই ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় তোপ দেগে তৃণমূলের অভিযোগ, ‘এসআইআর আতঙ্কে বলি আরও একটি নিরীহ প্রাণ! অমানবিক প্রশাসনিক চাপ, অবাস্তব সময়সীমা আর সামান্য ভুলের কারণে শাস্তির আতঙ্ক—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নদিয়ার ষষ্ঠীতলার বিএলও রিঙ্কু তরফদার। এই অসহ্যকর পরিস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। নির্বাচন কমিশনের জটিল ডিজিটাল প্রক্রিয়া, অবাস্তব সময়সীমা, শাস্তির আতঙ্ক ও রাতভর তদারকির নামে যে মানসিক নির্যাতন কর্মীদের ওপর চাপানো হচ্ছে —তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অমানবিক চাপে যখন বিএলও-দের প্রাণ যাচ্ছে, তখন বিজেপি শুধু রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। এটাই বিজেপির নিষ্ঠুর, অমানবিক ও দায়িত্বহীন রাজনীতির প্রকৃত চেহারা।’

প্রসঙ্গত, কর্তব্যরত অবস্থায় রাজ্যে বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় যে দুজন বিএলও আগে মারা গিয়েছেন তাদের পরিবারকে দেওয়া হবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। এছাড়াও দুর্ঘটনায় আহত বিএলও-দের জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে যে দুজন বিএলও মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার পরিবারকেও একলক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।